​বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা, সতর্ক করলেন জারা

আপলোড সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০৫:৩৮:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০৫:৩৮:১৫ অপরাহ্ন
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। তার মতে, বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ গেলে গ্রাহকের সামনে বিকল্প সরবরাহকারী বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে ন্যায্য দাম ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

পাঠকদের জন্য তাসনিম জারার পোস্টটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো-

সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অর্থাৎ আপনার এলাকায় বিদ্যুতের যে তার আসে, বাসায় যে মিটার বসে, মাস শেষে যে বিল আসে, এই সব নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে প্রাইভেট কোম্পানির হাতে।

চাল-ডাল কিনতে গিয়ে এক দোকানে দাম বেশি রাখলে আপনি পাশের দোকান থেকে ন্যায্য দামে কেনেন। এই ভয়েই দোকানদার ন্যায্য দাম রাখেন। বিদ্যুতের বেলায় কি সে উপায় থাকবে?

থাকবে না। আপনার এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য চারটা কোম্পানি চার সেট খুঁটি আর তার টেনে রাখবে না, যে আপনি দেখেশুনে বেছে নেবেন কে কম দামে ভালো সেবা দেয়, ঝড়বৃষ্টিতে কার লাইন আগে ফেরে। তার থাকবে একটাই। সেই তারের মালিক যে কোম্পানি, বিদ্যুৎ আপনাকে তার কাছ থেকেই নিতে হবে।

এখন চিন্তা করুন, আপনার মহল্লায় যদি একটামাত্র চাল-ডালের দোকানের অনুমতি থাকে, দ্বিতীয় দোকান খোলাই নিষেধ, সেই দোকানদার কি দাম কমাবেন? কমাবেন না।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, পৃথিবীর কোনো দেশে কি বিদ্যুৎ প্রাইভেট কোম্পানির হাতে নাই? আছে। কিন্তু সেখানে কঠিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকে। ব্যবসাগুলো যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হচ্ছে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং তারা সেটা স্বাধীনভাবে করেন।

যেমন ব্রিটেনে ঝড়ে লাইন গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না ফেরালে তারের কোম্পানি গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে। এটা গ্রাহককে চাইতে হয় না, কোম্পানিকে নিজে পাঠাতে হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এটা নিশ্চিত করে।

আরেকটা উদাহরণ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বছরের পর বছর প্রকাশ্যে দাবি করে গেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাক। নিজের বসানো গভর্নরকে গালমন্দ করেছেন, বরখাস্তের হুমকি দিয়েছেন। কাজ হয় নাই।
একটু মনে করার চেষ্টা করুন, আমাদের দেশে কবে, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরকারের মুখের উপর "না" বলেছে? মনে পড়বে না। বরং উল্টোটা মনে পড়বে।

বিদ্যুৎ সরকারের হাতে থাকলে তবু ব্যর্থতা কোথায় হচ্ছে সেটা আপনি  জানেন। লোডশেডিং হলে, বিল অস্বাভাবিক আসলে সরকারের দায় থাকে। নির্বাচনে হারার ভয় থাকে।

প্রাইভেট কোম্পানির বেলায় সেই পথও বন্ধ। সে আপনার ভোটে নির্বাচিত না, ভোট দিয়ে তাকে সরানোও যাবে না। বাজারে তার প্রতিদ্বন্দ্বীও নাই যে আপনি পাশের দোকানে চলে যাবেন।

আর এই চুক্তিগুলো হয় বিশ-পঁচিশ বছরের জন্য। একবার সই হয়ে গেলে সরকার বদলালেও চুক্তি বদলায় না।

অর্থাৎ সরকার এখন যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তার জন্য যুগের পর যুগ ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।


বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :