জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের পল্লী এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনস্থ দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দেয়। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির আওতায়। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও দৈনিক ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আইজিপি'র কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কিছু বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহ
বুধবার জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।
প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
চলমান গ্যাস সংকটে বিদ্যুতে লোডশেডিং এর জন্য জনদুর্ভোগের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্য টার্মিনালটিও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো জানান, পূর্ণ সক্ষমতায় টার্মিনালটি চালাতে একটি বয়লার সচল করতে হবে। এ জন্য প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটির উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। কোন সময়ে বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে প্রভাব কম হবে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনস্থ দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দেয়। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির আওতায়। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও দৈনিক ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আইজিপি'র কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কিছু বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহ
বুধবার জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।
প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
চলমান গ্যাস সংকটে বিদ্যুতে লোডশেডিং এর জন্য জনদুর্ভোগের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্য টার্মিনালটিও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো জানান, পূর্ণ সক্ষমতায় টার্মিনালটি চালাতে একটি বয়লার সচল করতে হবে। এ জন্য প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটির উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। কোন সময়ে বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে প্রভাব কম হবে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে