গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ

লোডশেডিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা

আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:২৫ অপরাহ্ন
একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি। এ নিয়ে ফেনীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০০ ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়।

ট্রান্সফরমার চুরির পর দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকছেন গ্রাহকরা। তীব্র গরমে অসহনীয় দুর্ভোগের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পচনশীল পণ্য। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার উৎপাদন। অথচ চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনে গ্রাহকদেরই গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) আবদুল আউয়াল জানান, ফেনী সদর থেকে ৫৮টি, ছাগলনাইয়া থেকে ৩৬টি, পরশুরাম থেকে তিনটি, সোনাগাজী থেকে দুটি এবং দাগনভূঞা থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ফুলগাজীতে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা এসব ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সেগুলোর ভেতরের মূল্যবান কয়েল ও তামার তার খুলে নেওয়া হচ্ছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তর কুহুমা গ্রামের একটি মসজিদের ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার তিন দিন আগে চুরি হয়েছে। এতে মসজিদসহ ৬৩টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল মিথুন জানান, নতুন ট্রান্সফরমার বসাতে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসে ৮১ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

শিল্প মিটারের গ্রাহক আলাউদ্দিন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুনটি বসাতে যে সময় লাগে, ততদিনে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের অনেকের পথে বসার উপক্রম হয়।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে এর অর্ধেক এবং দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্য গ্রাহকদের দিতে হয়। চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে এবং গ্রাহকদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিভিন্ন থানায় অনেক মামলা হয়েছে। অনেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া তারও উদ্ধার হয়েছে। এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :