৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বাড়ছে জনভোগান্তি

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০২:৫২:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৪:৩৫:২৬ অপরাহ্ন
উন্নয়নকাজের নামে দীর্ঘসূত্রতা, যত্রতত্র সড়ক খুঁড়ে রাখা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকা কাঁদাপানিতে বেহাল অবস্থা—সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা–ভেটখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ অংশে এখন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। তদারকির অভাব ও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি এখন পথচারী ও যানচালকদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রায় ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট ৫টি প্যাকেজে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যাদেশ জারি করা হয়।

​নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩১ থেকে ৩২ শতাংশ। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরো কাজ শেষ না করে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদা ও পানির নালায় পরিণত হচ্ছে।

​শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানেই উন্নয়নকাজ বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। সড়কজুড়ে থাকা বিশাল বিশাল খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে পিচ্ছিল কাদার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি যাত্রীসহ একটি ইজিবাইক খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও, স্থানীয়দের মতে, এমন দুর্ঘটনা এখন তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।

​মহাসড়কটির এই করুণ দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রতিদিনের যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা।

​পরিবহনচালক আব্দুর রহিম বলেন, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে হয়। প্রতিদিন গাড়ি কাদায় আটকে যাচ্ছে বা উল্টে গিয়ে ভাঙচুর হচ্ছে। দৈনিক যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ চলে যায় গাড়ি মেরামতের পেছনে। অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে এই রোডে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

​স্থানীয় বাসিন্দা মনজুরুল ইসলাম অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, রাস্তার যে অবস্থা, সুস্থ মানুষও এতে যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। জরুরি কোনো রোগীকে সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কারের নামে পুরো এলাকার মানুষকে জিম্মি করার কোনো মানে হয় না।

​দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে এমন অচলাবস্থা তৈরি হলেও সড়ক বিভাগ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

​কাজের ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেড'-এর প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ব্যবহৃত সব কাঁচামাল ও নির্মাণ সামগ্রী যথাযথ ল্যাব টেস্ট এবং উৎস অনুমোদনের পরেই মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে।

​অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কার্যাদেশ সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা প্রাথমিক সময়সীমাকে প্রভাবিত করেছে। প্রকল্পের ২ ও ৩ নম্বর প্যাকেজ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি (পোল) সময়মতো অপসারণ না করায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সওজ-এর পক্ষ থেকে কাজটি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

​সড়কটিতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, চালক ও সুশীল সমাজের জোর দাবি—প্রকল্পের তদারকি বাড়িয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি, পুরো কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে হলেও যেন খানাখন্দ ভরাট করে সড়কটিকে জরুরি যাতায়াতের উপযোগী করা হয়। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :