ইন্টারনেট গতিতে তলানির দিকে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন
ডিজিটাল রূপান্তর, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে ধীরগতির ইন্টারনেট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, ইন্টারনেট পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ এখনও আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

রবিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অ্যাটলাস অব গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স অনুযায়ী মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে ১০৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গতিতে ১৪১ দেশের মধ্যে ৯৩তম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি মাত্র ৪৩ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস), যেখানে একই নিম্ন-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও ভিয়েতনামে এই গতি ১৮৮ এমবিপিএস।

ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গড় গতি বাংলাদেশে ৬৬ এমবিপিএস। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, চতুর্থ প্রজন্মের (৪জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরো জনগোষ্ঠীর আওতায় থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখনও সীমিত। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, অর্থাৎ নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনও অফলাইনে রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং মোবাইল ফোন মালিকানার হার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, নেটওয়ার্ক কভারেজ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে ব্যবধানের কারণ হলো উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন, ব্যয়বহুল ডাটা প্যাকেজ এবং সীমিত ডিজিটাল সাক্ষরতা। সংস্থাটি বলেছে, অবকাঠামো থাকলেই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, দুর্বল সংযোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ এবং নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ধীর ও অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা ও কিউআর-কোডভিত্তিক পেমেন্টে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আস্থাও কমিয়ে দেয়।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, দুর্বল ইন্টারনেট অবকাঠামো উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, রফতানি, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনটি গ্রামীণ ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেছে। গ্রামীণ এলাকায় এখনও দুর্বল সংযোগের কারণে কৃষি তথ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট ও সরকারি সেবায় প্রবেশ সীমিত। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে নারীদের তুলনায় প্রায় ২৮ কোটি বেশি পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে নারীরা উচ্চ খরচ, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতা ও সামাজিক বাধার কারণে বেশি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত দুই দশকে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশের বেশি হয়েছে। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, শুধু সংযোগ সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়; অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল দক্ষতা ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :