কাপ্তাই হ্রদে কমেছে নাব্যতা, প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে

আপলোড সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ১১:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ১১:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন
৬৫ বছরেও তলদেশ খনন না হওয়ায় পলি জমে কমেছে কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা। যার প্রভাব পড়েছে এই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বাঁধের জলকপাট খুলে ছেড়ে দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে কম হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে হ্রদের নাব্যতা বৃদ্ধি প্রয়োজন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষাটের দশকে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। যা কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত। মূলত পানি ব্যবহার করে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)।

চলতি বছরের ১৮ জুলাই কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়ে। গত বছর পাঁচ দফায় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত জলকপাট খোলা রাখা হয় প্রায় ৩০ দিন। এতে প্রচুর পানি কোনো ব্যবহার ছাড়াই ছেড়ে দিতে হয়। অথচ এই পানির অভাবে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুষ্ক মৌসুম নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত হ্রদে পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট চালু রেখে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। হ্রদের নাব্যতা বৃদ্ধি পেলে শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি আরো একটি বা বা দুটি ইউনিট চালু রেখে আরো ৪০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট।

জুরাছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বলেন, “আগে বর্ষায় যেসব জায়গা প্লাবিত হতো না, এখন সেসব জায়গাও প্লাবিত হচ্ছে। আমরা মনে করছি, হ্রদের তলদেশ ভর্তি হওয়ার কারণে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যদি তলদেশ খনন করা হয়, তবে নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে শুষ্ক মৌসুমেও যেমন যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে, তেমনি কৃষিতে এলাকাবাসী উপকার পাবে। বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়বে।”

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ খননের বিকল্প নেই। হ্রদ খনন করা হলে পানি আরো বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে যোগাযোগের সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি একটি বা দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো বাড়ানো যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন ত্রিপুরা বলেন, “তলদেশ খননে একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। প্রকল্পের অধিনে কাচালং, রাইংক্ষ্যং ও শলক নদীর তলদেশ খনন করা হবে। এতে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু ও জুরাছড়ির রুটে নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। শিগগিরি খননের কাজ
শুরু হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :