গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের ১১ দিনের যাত্রা শেষ হলো এক বর্ণিল, আবেগঘন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
ক্রীড়াবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে হাইড্রো অ্যারেনা রবিবার রাতে পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্য, আধুনিক সংগীত, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং কমনওয়েলথ পরিবারের ঐক্যের বার্তায় সাজানো এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ২০৩০ সালের আয়োজক শহর ভারতের আমদাবাদের কাছে।
আয়োজকদের ভাষায়, এটি শুধু একটি সমাপনী অনুষ্ঠান নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মান এবং নতুন প্রজন্মের কমনওয়েলথ গেমসের যাত্রার সূচনা।
৯০ মিনিটের অনুষ্ঠান শুরু হয় স্কটল্যান্ডের জনপ্রিয় শিল্পী স্যান্ডি থম এবং ঐতিহ্যবাহী ড্রাম ব্যান্ড ক্ল্যান অ্যান ড্রামার পরিবেশনায়। ‘প্রাউড টু বি ফ্রম স্কটল্যান্ড’ গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাইড্রো অ্যারেনা। স্কটল্যান্ডের জাতীয় পতাকার আদলে নির্মিত মঞ্চে আলো, শব্দ এবং নৃত্যের সমন্বয়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্কটিশ ও ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন। ব্যাগপাইপ, স্কটিশ হুইসেল এবং ভারতীয় সেতারের যুগল পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দুই দেশের সংগীত ঐতিহ্যের এই সম্মিলন ছিল গ্লাসগো থেকে আমদাবাদের যাত্রার প্রতীকী উপস্থাপন।
এরপর শুরু হয় ভারতের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে বলিউড ঘরানার বর্ণিল নৃত্য, সংগীত এবং আলোকসজ্জায় ভবিষ্যৎ আয়োজক ভারতের সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। এই অংশে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কিংস ব্যাটন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের কাউন্টডাউন।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রতিযোগিতা শেষ করে বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা একসঙ্গে নেচে-গেয়ে উদযাপন করেন গেমসের সমাপ্তি। ১১ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। হাজারো স্বেচ্ছাসেবকও এই উৎসবে যোগ দেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ক্রীড়া, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গ্লাসগো ২০২৬ শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের জন্যও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পদক আধিপত্য, নাইজেরিয়ার বিশ্বরেকর্ড, ভারতের বক্সিং সাফল্য, দক্ষিণ আফ্রিকার সাঁতারু চ্যাড লে ক্লসের সর্বাধিক পদকজয়ী হওয়ার কীর্তি, স্কটল্যান্ডের নিল ফ্যাচির বিদায়ী স্বর্ণ এবং তরুণ তারকাদের উত্থান এই আসরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
আবেগঘন মুহূর্তও ছিল অনেক। ভেলোড্রোমে কিংবদন্তি স্যার ক্রিস হয়কে দর্শকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো, মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা স্কটিশ সাঁতারু আর্চি গুডবার্নের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জ্যামাইকার নেটবল দলের উচ্ছ্বাস গ্লাসগোর অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক নৃত্য ‘কেইলি’ পরিবেশিত হয়। এরপর জনপ্রিয় ব্যান্ড এন ট্রান্সের ‘সেট ইউ ফ্রি’ গানে কণ্ঠ মেলান ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং দর্শকেরা। পুরো হাইড্রো তখন পরিণত হয় এক বিশাল নৃত্যমঞ্চে।
সবশেষে মঞ্চে আসে স্কটিশ কিংবদন্তি রক ব্যান্ড সিম্পল মাইন্ডস। তাদের বিশ্বখ্যাত গান ‘ডোন্ট ইউ (ফরগেট অ্যাবাউট মি)’ পরিবেশনার সঙ্গে আলোকসজ্জা ও উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের।
মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে আয়োজিত এই গেমস দেখিয়ে দিয়েছে, সীমিত বাজেটেও বিশ্বমানের ক্রীড়া আসর আয়োজন সম্ভব। বিদায়ের মুহূর্তে গ্লাসগো শুধু একটি সফল কমনওয়েলথ গেমস শেষ করেনি, ভবিষ্যতের আয়োজনের জন্যও একটি নতুন মডেল উপহার দিয়েছে। এখন কমনওয়েলথ পরিবারের দৃষ্টি ভারতের আমদাবাদে, যেখানে ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হবে গেমসের শতবর্ষের আসর।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
ক্রীড়াবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে হাইড্রো অ্যারেনা রবিবার রাতে পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্য, আধুনিক সংগীত, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং কমনওয়েলথ পরিবারের ঐক্যের বার্তায় সাজানো এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ২০৩০ সালের আয়োজক শহর ভারতের আমদাবাদের কাছে।
আয়োজকদের ভাষায়, এটি শুধু একটি সমাপনী অনুষ্ঠান নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মান এবং নতুন প্রজন্মের কমনওয়েলথ গেমসের যাত্রার সূচনা।
৯০ মিনিটের অনুষ্ঠান শুরু হয় স্কটল্যান্ডের জনপ্রিয় শিল্পী স্যান্ডি থম এবং ঐতিহ্যবাহী ড্রাম ব্যান্ড ক্ল্যান অ্যান ড্রামার পরিবেশনায়। ‘প্রাউড টু বি ফ্রম স্কটল্যান্ড’ গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাইড্রো অ্যারেনা। স্কটল্যান্ডের জাতীয় পতাকার আদলে নির্মিত মঞ্চে আলো, শব্দ এবং নৃত্যের সমন্বয়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্কটিশ ও ভারতীয় সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন। ব্যাগপাইপ, স্কটিশ হুইসেল এবং ভারতীয় সেতারের যুগল পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দুই দেশের সংগীত ঐতিহ্যের এই সম্মিলন ছিল গ্লাসগো থেকে আমদাবাদের যাত্রার প্রতীকী উপস্থাপন।
এরপর শুরু হয় ভারতের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে বলিউড ঘরানার বর্ণিল নৃত্য, সংগীত এবং আলোকসজ্জায় ভবিষ্যৎ আয়োজক ভারতের সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। এই অংশে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কিংস ব্যাটন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের কাউন্টডাউন।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রতিযোগিতা শেষ করে বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা একসঙ্গে নেচে-গেয়ে উদযাপন করেন গেমসের সমাপ্তি। ১১ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। হাজারো স্বেচ্ছাসেবকও এই উৎসবে যোগ দেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ক্রীড়া, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গ্লাসগো ২০২৬ শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের জন্যও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পদক আধিপত্য, নাইজেরিয়ার বিশ্বরেকর্ড, ভারতের বক্সিং সাফল্য, দক্ষিণ আফ্রিকার সাঁতারু চ্যাড লে ক্লসের সর্বাধিক পদকজয়ী হওয়ার কীর্তি, স্কটল্যান্ডের নিল ফ্যাচির বিদায়ী স্বর্ণ এবং তরুণ তারকাদের উত্থান এই আসরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
আবেগঘন মুহূর্তও ছিল অনেক। ভেলোড্রোমে কিংবদন্তি স্যার ক্রিস হয়কে দর্শকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো, মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা স্কটিশ সাঁতারু আর্চি গুডবার্নের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জ্যামাইকার নেটবল দলের উচ্ছ্বাস গ্লাসগোর অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক নৃত্য ‘কেইলি’ পরিবেশিত হয়। এরপর জনপ্রিয় ব্যান্ড এন ট্রান্সের ‘সেট ইউ ফ্রি’ গানে কণ্ঠ মেলান ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং দর্শকেরা। পুরো হাইড্রো তখন পরিণত হয় এক বিশাল নৃত্যমঞ্চে।
সবশেষে মঞ্চে আসে স্কটিশ কিংবদন্তি রক ব্যান্ড সিম্পল মাইন্ডস। তাদের বিশ্বখ্যাত গান ‘ডোন্ট ইউ (ফরগেট অ্যাবাউট মি)’ পরিবেশনার সঙ্গে আলোকসজ্জা ও উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামে গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের।
মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে আয়োজিত এই গেমস দেখিয়ে দিয়েছে, সীমিত বাজেটেও বিশ্বমানের ক্রীড়া আসর আয়োজন সম্ভব। বিদায়ের মুহূর্তে গ্লাসগো শুধু একটি সফল কমনওয়েলথ গেমস শেষ করেনি, ভবিষ্যতের আয়োজনের জন্যও একটি নতুন মডেল উপহার দিয়েছে। এখন কমনওয়েলথ পরিবারের দৃষ্টি ভারতের আমদাবাদে, যেখানে ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হবে গেমসের শতবর্ষের আসর।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন