ফরিদপুরে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগ

আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১২:১৩:২২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১২:১৩:২২ অপরাহ্ন
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকটের চর ইউনিয়নের আকট বাজারসংলগ্ন খালের ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো লোকজন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সেখানে পাকা সেতু না থাকায় তিন শতাধিক পরিবারের দেড় হাজারের বেশি মানুষ বছরের পর বছর পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আকট খাল নামে পরিচিত এই খাল পদ্মা নদী থেকে শুরু হয়ে প্রায় আট কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে মিলেছে। খালটির গড় প্রস্থ ১০০ মিটার। এর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী ও অন্তঃসত্ত্বারা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, খালের ওপারের এলাকায় প্রায় ২৫ বছর আগে বসতি গড়ে ওঠে। পরে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে বটতলা আদর্শ গ্রামে ৭৫টি এবং গুচ্ছগ্রামে ১০০টি ভূমিহীন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২৪ সালে আরও ৬০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হলেও সেতু না থাকাসহ নানা ভোগান্তির কারণে সেগুলোর অধিকাংশই এখন পরিত্যক্ত।

গত ১৮ জুলাই সরেজমিন দেখা যায়, খালের ওপর বাঁশের তৈরি একটি জরাজীর্ণ সাঁকোই এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। ঝুঁকি নিয়েই মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার অন্তত তিন শতাধিক পরিবারের দেড় হাজারের বেশি মানুষকে নিয়মিত সদরপুর উপজেলা সদরে যেতে হয়। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মক্তব বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে সাঁকোটি পার হতে হয়।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কাকলী আক্তার বলেন, এ এলাকা থেকে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আকটের চর সাগর চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে পড়তে যায়। বর্ষাকালে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আকট বাজার এলাকা থেকে আট কিলোমিটার দূরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বটতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শরৎকালে পদ্মার চরে কাশফুল দেখতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী আসেন। তখন বাঁশের সাঁকো খুলে দিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবার পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার ব্যাপারী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। বিষয়টি বহুবার চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আকটের চর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসলাম ব্যাপারী বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে নিজের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করছেন। বর্তমানে সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিকবার স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আকট খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে তিন শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান করা হোক। সেই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই স্থানে পাকা সেতুর অভাবে জনজীবনে দুর্ভোগ হচ্ছে, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। দ্রুত ঘটনাস্থল ঘুরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :