মহাসড়কে সবুজের সৌন্দর্য: হিজলের রঙিন ছোঁয়ায় মুগ্ধ পথচারিরা

আপলোড সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০১:২২:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০১:৩১:৩৭ অপরাহ্ন
বাংলার জলাভূমির পরিচিত বৃক্ষ হিজল এখন শুধু হাওর-বিলেই সীমাবদ্ধ নেই। গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশজুড়ে সারিবদ্ধ হিজলগাছ সৃষ্টি করেছে দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে পাতা, ফুল ও সবুজের বৈচিত্র্যময় রূপে সেজে থাকা এসব গাছ প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও পথচারীর ক্লান্ত চোখে এনে দিচ্ছে স্বস্তি আর প্রশান্তি।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ভবানীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মেম্বারবাড়ী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কের বিভাজক ও পাশের অংশে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলগাছগুলো এখন প্রকৃতির জীবন্ত প্রদর্শনী। বর্ষার আবহে প্রতিটি গাছে ফুটেছে লালচে-গোলাপি রঙের ফুল। ঝরে পড়া ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে সড়কের পাশের মাটি, আর ঘন সবুজ পাতার আচ্ছাদনে পুরো এলাকা পেয়েছে এক অন্য সৌন্দর্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত মহাসড়কে যানবাহনের অবিরাম চলাচলের মাঝেও এই সবুজ করিডোর পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিকেলের দিকে প্রকৃতিপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষ শুধু হিজলের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই সেখানে ভিড় করছেন। অনেকেই দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউবা কিছুক্ষণ প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের বিভিন্ন সময় মহাসড়কের ডিভাইডার ও সড়কের পাশে থাকা নানা প্রজাতির গাছ ফুলে-ফলে সেজে ওঠে। তবে, হিজলগাছের আবেদন অন্য সব গাছের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর ফুল ফুটলে পুরো পরিবেশে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য।

একসময় দেশের নদী, বিল ও জলাভূমি অঞ্চলে প্রচুর দেখা মিললেও বর্তমানে হিজলগাছ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে মহাসড়কের বিভাজকে এমন বিপুল সংখ্যক হিজলগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও হয়ে উঠেছে।

পথচারী শাহাদাত হোসেন বলেন, “একসময় দেশে অনেক হিজলগাছ ছিল। এখন খুব একটা দেখা যায় না। বর্ষা মৌসুমে হিজলের লালচে-গোলাপি ফুল গাছটিকে অন্যরকম সৌন্দর্য দেয়। মহাসড়কে এতগুলো হিজলগাছ একসঙ্গে দেখতে সত্যিই ভালো লাগে। এটি সড়কের সৌন্দর্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।"

বাংলাদেশ রিভার অ্যান্ড নেচার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “হিজল পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশীয় বৃক্ষ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ হিজলগাছ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে যেমন জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, তেমনি প্রকৃতির হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যও ফিরে আসবে।”

সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) গাজীপুরের প্রকৌশলী কে এম শরিফুল আলম বলেন, “সড়ক ও মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনে বৃক্ষরোপণ একটি চলমান কার্যক্রম। বর্তমান সরকারের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। হিজলগাছ যেহেতু প্রকৃতিতে ক্রমেই বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে, তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :