বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী মনির খানের জন্মদিন আজ। ১৯৭২ সালের ১ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ‘অঞ্জনা’ গানটির মাধ্যমে তিনি যে পরিচিতি পেয়েছেন, তা আজও তার পরিচয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ।
চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে মনির খান দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড়। তার বাবা মো. মাহবুব আলী খান ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক এবং মা মোছা. মনোয়ারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। শৈশব কেটেছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
‘খালেদা জিয়া বৈষম্য করেননি, সবসময় মানুষের কথা ভেবেছেন’, কবর জিয়ারতের পর মনির খান
মনির খানের শিক্ষাজীবনের শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি হাকিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর বহরাম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে কোটচাঁদপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে গান শেখার মধ্য দিয়ে তার সংগীতচর্চার শুরু। পরে ওস্তাদ রেজা খসরুর কাছে সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক তালিম নেন। পাশাপাশি চক্রবর্তী, ইউনুস আলী মোল্লা, খন্দকার এনায়েত হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুণী সংগীতজ্ঞের কাছ থেকেও তিনি সংগীতের বিভিন্ন দিক শেখেন। এই দীর্ঘ প্রস্তুতিই পরবর্তীকালে তার সংগীতজীবনের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
১৯৯৬ সালে ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ শিরোনামের একক অ্যালবামের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সংগীতাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন মনির খান। তবে তারও আগে বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন। প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পরই ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। অ্যালবামটির জনপ্রিয়তা তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রেম, বিরহ, আবেগ ও জীবনের নানা অনুভূতি সহজ-সরল ভাষায় গানে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মনির খান খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের শিল্পীতে পরিণত হন। তার গায়কী, সুর নির্বাচন এবং কথার আবেগ শ্রোতাদের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব ও আয়োজনে তার গাওয়া ‘অঞ্জনা’ গানটি এখনও সমানভাবে শ্রোতাদের মুখে মুখে শোনা যায়।
প্রায় তিন দশকের সংগীতজীবনে মনির খান প্রকাশ করেছেন ৪৩টি একক অ্যালবাম। এ ছাড়া তিন শতাধিক দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবামে গান গেয়েছেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। চার শতাধিক সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। পাশাপাশি কয়েক শতাধিক একক মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা দেশ-বিদেশের বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।TV & Video
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মনির খান তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনে মনির খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনের পরও নতুন গান এবং মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের কাছে উপস্থিত হচ্ছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই শিল্পী। জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সংগীতজীবনের আরও সাফল্য কামনা করছেন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে মনির খান দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড়। তার বাবা মো. মাহবুব আলী খান ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক এবং মা মোছা. মনোয়ারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। শৈশব কেটেছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
‘খালেদা জিয়া বৈষম্য করেননি, সবসময় মানুষের কথা ভেবেছেন’, কবর জিয়ারতের পর মনির খান
মনির খানের শিক্ষাজীবনের শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি হাকিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর বহরাম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে কোটচাঁদপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে গান শেখার মধ্য দিয়ে তার সংগীতচর্চার শুরু। পরে ওস্তাদ রেজা খসরুর কাছে সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক তালিম নেন। পাশাপাশি চক্রবর্তী, ইউনুস আলী মোল্লা, খন্দকার এনায়েত হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুণী সংগীতজ্ঞের কাছ থেকেও তিনি সংগীতের বিভিন্ন দিক শেখেন। এই দীর্ঘ প্রস্তুতিই পরবর্তীকালে তার সংগীতজীবনের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
১৯৯৬ সালে ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ শিরোনামের একক অ্যালবামের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সংগীতাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন মনির খান। তবে তারও আগে বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন। প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পরই ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। অ্যালবামটির জনপ্রিয়তা তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রেম, বিরহ, আবেগ ও জীবনের নানা অনুভূতি সহজ-সরল ভাষায় গানে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মনির খান খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের শিল্পীতে পরিণত হন। তার গায়কী, সুর নির্বাচন এবং কথার আবেগ শ্রোতাদের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব ও আয়োজনে তার গাওয়া ‘অঞ্জনা’ গানটি এখনও সমানভাবে শ্রোতাদের মুখে মুখে শোনা যায়।
প্রায় তিন দশকের সংগীতজীবনে মনির খান প্রকাশ করেছেন ৪৩টি একক অ্যালবাম। এ ছাড়া তিন শতাধিক দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবামে গান গেয়েছেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। চার শতাধিক সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। পাশাপাশি কয়েক শতাধিক একক মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা দেশ-বিদেশের বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।TV & Video
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মনির খান তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনে মনির খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনের পরও নতুন গান এবং মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের কাছে উপস্থিত হচ্ছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই শিল্পী। জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সংগীতজীবনের আরও সাফল্য কামনা করছেন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন