পরিত্যক্ত জেলখানা এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০১:০৮:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০১:০৮:৩১ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ঐতিহাসিক জেলখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে অবহেলিত এই স্থাপনাটি মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলখানার মূল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে ফাটল ধরেছে, ভেঙে পড়েছে অবকাঠামো। এমনকি ভবনের দরজা-জানালার লোহা ও রড লুটপাট করে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা। চারপাশে ঝোপঝাড় গজিয়ে ওঠায় সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে বাড়ে বহিরাগতদের আনাগোনা।

স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলখানাটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। আরেক বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, অবকাঠামোটি পরিষ্কার ও সংস্কার করে নতুন কিছু তৈরি করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ১৯৮১ সালের ২৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই জেলখানাটির গেজেট প্রকাশ করেন। মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে এই গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হতে বসেছে।

এ ছাড়া জায়গাটি সংস্কার করে ‘শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ফেরদৌস আহমেদ।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, পরিত্যক্ত জেলখানাটিতে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানটি সংস্কার করে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র বা অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :