দুই নদীর ভাঙনে দ্বীপে পরিণত হয়েছে ইসলামাবাদ গ্রাম

গ্রাম হলো দ্বীপ: অর্ধশত পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৩:২৫:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৩:২৬:২২ অপরাহ্ন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামটি বিষখালী ও গজালিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এখন এই গ্রামে বসবাসকারী ৪৫টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। নদী ভাঙনের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৬ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের পর ইসলামাবাদ গ্রামটি মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বিষখালী ও গজালিয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে।

ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, “একসময় আমাদের অনেক জমি ছিল। নদীভাঙনে প্রায় সব শেষ। এখন যে জায়গাটুকু আছে, সেটাও কখন নদীতে চলে যায় সেই আতঙ্কে দিন কাটাই। রাতেও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি না।”

রাবেয়া বেগম নামে অপর বাসিন্দা বলেন, “অসুস্থ রোগী হলে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে নৌকাও চলে না। সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত করাতেও অনেক কষ্ট হয়। আমরা চাই সরকার দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিক।”

বর্তমানে গ্রামটিতে মাত্র ৪৫টি পরিবার বসবাস করছে। সামর্থ্যবান অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও অসহায় পরিবারগুলো এখনো সেখানে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অচিরেই পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

গ্রামটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে, যাতায়াতের দুর্ভোগ ও নানা সংকটের কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে সেখানে মাত্র ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

গ্রামটির বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাজার কিংবা জরুরি প্রয়োজনে তাদের নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। নদীভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন তারা।

রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, “ইসলামাবাদ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যারা এখনো সেখানে আছেন, তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। বিষয়টি আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানিয়েছি। দ্রুত কার্যকর নদী তীররক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অবশিষ্ট গ্রামটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. এম. নিলয় পাশা বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদ গ্রামটি নদীর মূল তীরের বাইরে, মাঝনদীর একটি দ্বীপসদৃশ এলাকায় অবস্থিত। বর্তমান সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড মূলত নদীর তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ফলে মাঝনদীর এই অংশে সরাসরি ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণে আইনি ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও (আধা-সরকারি) চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।”

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, “বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :