মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক আজ

জ্বালানি সংকট নিয়ে কী ভাবছে সরকার?

আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১১:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে দেশে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক বৈঠকেই রেকর্ড প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) জোড়া বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় ১৫.৮০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। সংশ্লিষ্ট একটি নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এবং প্রণালিভিত্তিক (স্ট্রেট অব হরমুজ) নৌপথের নিরাপত্তার চরম হুমকির মুখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপি) ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওমানভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভার্জেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ায় এ ডিজেল কেনা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪০.৭৯ মিলিয়ন ডলার)। ওই হিসাবে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতেই সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১০০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। একই দিনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ৮টি প্রধান ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (CCC) ও বিএডিসির মধ্যকার চুক্তির আওতায় ১২তম লটে ৪০,০০০ (+-১০%) টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) ক্রয়ের প্রস্তাব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের প্রস্তাব। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে টার্ন-কি ভিত্তিতে ব্যাটারি ব্যাক-আপ ও বিতরণ ব্যবস্থাসহ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বস্তা ই-জিপি সিস্টেমে ক্রয়ের প্রস্তাব। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি এলাকার ৫টি কার্গো বার্থ ৫ বছরের জন্য ডিপিআর-২০০৬ অনুসরণপূর্বক বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ন্যূনতম ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিএসসি) পূর্বনির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা সময়মতো তেল সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস হিসাবে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেয় বিপিএসসি। 

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের ঝুঁকি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিপিআর বিধিমালা ব্যবহার করে সরাসরি কেনাকাটার বিধান থাকলেও এতে স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও কৃষি খাতের উৎপাদন সচল রাখতে আপৎকালীন মজুত বাড়াতেই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :