বিদ্যুৎ বিল কমাতে স্মার্ট হোম ডিভাইস কতটা কার্যকর?

আপলোড সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ১১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ১১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন
ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে অসাবধানতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ মূল্যর ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির কারণে একটি পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তার ওপর জনসাধারণের বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের প্রতি উদাসীনতা এই সমস্যাটির সমাধানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে স্মার্ট হোম ডিভাইস। সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় সময়সূচি এবং রিয়েল-টাইম বিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব ডিভাইস প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্র পরিচালনা করে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমায়।

স্মার্ট এসি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে। স্মার্ট ইনভার্টার এসি বা স্মার্ট এসি কন্ট্রোলার ঘরের তাপমাত্রা, ব্যবহারকারীর উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুলিং নিয়ন্ত্রণ করে। প্রয়োজন না হলে কমপ্রেসরের গতি কমিয়ে দেয় বা নির্দিষ্ট সময় পর বন্ধ করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এসির বিদ্যুৎ ব্যবহার ১৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে এটি মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশে গ্রি, স্যামসং, ওয়ালটন, হায়ার, হাইসেন্সের মতো ব্র্যান্ডের স্মার্ট বা এনার্জি সেভিং সিরিজের এসিগুলো বাজারে বেশ জনপ্রিয়, যেগুলোর ব্যবহার গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের বিল অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারে।

স্মার্ট লাইটিং ও মোশন সেন্সর

স্মার্ট এলইডি বাল্ব, স্মার্ট সুইচ এবং মোশন সেন্সর ব্যবহার করলে রুমে কারো অনুপস্থিতিতে আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আবার দিনের আলো পর্যাপ্ত থাকলে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর আলোর উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়। গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের স্মার্ট লাইটিং ব্যবস্থায় আলোর জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৭–২৭ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব। বাংলাদেশে ট্রান্সটেক, শাওমি, সনোফ ও সুপারস্টার, ওয়ালটন- এর স্মার্ট লাইটগুলো বেশ জনপ্রিয়।

স্মার্ট প্লাগ ও বিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণ

টেলিভিশন, চার্জার, মাইক্রোওয়েভ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার করে। স্মার্ট প্লাগ নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। পাশাপাশি এটি রিয়েল-টাইমে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, কোন যন্ত্র সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং মাসিক ব্যয়ের আনুমানিক হিসাবও দেখায়। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয়ের উৎস সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যায়।

স্বয়ংক্রিয় সময়সূচি ও অটোমেশন

স্মার্ট হোমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অটোমেশন। ব্যবহারকারী বাসা থেকে বের হলে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী এসি, লাইট, গিজার বা অন্যান্য যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিংবা কোন নির্দিষ্ট সময় ধরে টাইমার বা দৈনিক রুটিন নির্ধারণ করা থেকে সে অনুযায়ী ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বন্ধ বা চালু হয়ে যায়। আবার বাসায় ফেরার আগে নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালুও করা যায়, ব্যবহারকারীর ফোনে যুক্ত অ্যাপের সাহায্যে। এতে ভুলবশত কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস চালু রেখে দেওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

স্মার্ট এনার্জি মনিটরিং

উন্নত স্মার্ট হোম ব্যবস্থায় এনার্জি মনিটরিং ড্যাশবোর্ড বিদ্যুৎ ব্যবহারের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিশ্লেষণ দেখায়। কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, কোন যন্ত্র অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে কিংবা কোথায় অপচয় হচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই অতিরিক্ত ৫–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।

তবে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করলেই বিদ্যুৎ বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ধেকে নেমে আসবে—এমনটি নয়। বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনার সবথেকে কার্যকর উপায়- ব্যবহারকারীর নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যুৎ অপচয়ে সতর্ক হওয়া এবং সাশ্রয়ী মনভাব গড়ে তোলা। তার পরও ভালো ফল পেতে বাড়ীতে প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রকে স্মার্ট হোম ডিভাইস দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে বাড়িকে স্মার্ট হোমে রূপান্তর করা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেরা ফল দিবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনায় পরিচালিত একটি স্মার্ট হোমে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনে মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :