​ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী

আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৭:০২:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৭:০২:৪১ অপরাহ্ন
প্রায় ছয় মাসের নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুন্দরবনে ফিরেছে ছিটকা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়া সেই বাঘিনী। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হলো।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো গুরুতর আহত একটি সুন্দরবনের বাঘকে দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া গুরুতর আহত সেই বাঘিনী তার আপন নিবাস সুন্দরবনে ফিরে গেছে। 

দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১টা পাঁচ মিনিটে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের আন্দারিয়া খাল এলাকায় প্রাণীটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১টা ৫ মিনিটে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের আন্দারিয়া খাল এলাকায় বাঘটিকে অবমুক্ত করা হয়। প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সুন্দরবনের ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ২০টি ক্যামেরা।

বাঘটি ছাড়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) সানাউল্লাহ পাটোয়ারী, বন্যপ্রাণী ‍ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঘ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনরুল এইচ খান, আইইউসিএন কর্মকর্তা সরোয়ার আলম, আবু হুরাইরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বন বিভাগ জানায়, গত ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকার বনে শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়েছিল প্রাণীটি। পরে ট্রাংকুলাইজার, বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে বাঘটি উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁদের রশিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ধরেছিল পচনও। পরে দীর্ঘ ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছে। 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শিকারিদের রশির ফাঁদে আটকে পড়ার পর টানাটানিতে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখানে পচন ধরেছিল। পরে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিয়মিত চিকিৎসায় বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ এবং ফিরেছে তার স্বাভাবিক চেহারায়। ওজন বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ক্ষিপ্রতাও। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা যায়, এখন শিকার ধরে খেতেও সক্ষম হয়েছে স্ত্রী বাঘটি (বাঘিনী)। বাঘটির বয়স ৯-১০ বছর হবে।

ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আরও জানান, ২১ মে বাঘ গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জুলাই যে কোনো সময় বাঘটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকার বনেই অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :