ছয় মাস চিকিৎসার পর সুন্দরবনে ফিরছে আহত বাঘিনী

আপলোড সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ০৩:২৮:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ০৩:২৮:১৮ অপরাহ্ন
সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আহত হওয়া রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীটি ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর আবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালসংলগ্ন বনে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করবেন।

বন বিভাগ জানায়, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্যাটেলাইট কলার না পাওয়ায় বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য বাঘিনীর বিচরণ এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুলাইজার প্রয়োগ করে তাকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠান।

প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতস্থানে সংক্রমণও দেখা দিয়েছিল। পরে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা, নিয়মিত ড্রেসিং ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, বাঘ প্রজনন মৌসুম ছাড়া সাধারণত নির্দিষ্ট এলাকায় একাই বসবাস করে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠা বাঘিনীটিকে তার নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্যাটেলাইট কলার না পাওয়ায় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তার চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চিকিৎসার পর বাঘিনীটির ওজন বেড়েছে এবং স্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা ফিরে এসেছে। বন বিভাগের ধারণা, এখন সে নিজেই শিকার ধরে খাদ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। দ্রুত তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেন, সুন্দরবনের একটি বাঘ সাধারণত ১৪ থেকে ১৫ বছর বাঁচে। প্রায় ১০ বছর বয়সী এ বাঘিনীকে দ্রুত তার স্বাভাবিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্দি অবস্থায় থাকলে তার স্বাভাবিক শিকারি আচরণ ও ক্ষিপ্রতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট কলার না থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘিনীটির চলাচল ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :