রেললাইন পাঁচ ফুট পর্যন্ত উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে: হাবিবুর রশিদ

আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ০২:০৬:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ০৪:৩৫:১০ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল। নগরের ষোলশহর-জানালিহাট সেকশনের মাঝামাঝি সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর থেকেই পানির নিচে চলে যায় রেললাইন। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ডুবে যাওয়া রেললাইন সরেজমিনে দেখতে শমসেরপাড়া এলাকায় ছুটে আসেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। 

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেন চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ষোলশহর-জানালীহাট সেকশন রেললাইনকে পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের এই সেকশন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ চিন্তা হচ্ছে, এই লাইনটি আরও পাঁচ ফুট উঁচু করা। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনে কাজ হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচল কোনো সমস্যা হবে না।

চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে রেল প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রামে দুদিন ধরে রেকর্ড বৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে বলছেন, গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামে হয়নি। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে, রেললাইন উঁচু করা, যাতে এই ধরনের ভারী বৃষ্টি হলেও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত না হয়।

তিনি বলেন, ৪৫ বছর আগেও এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি। বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট করে ডুবছে। এ কারণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে, রেললাইন উঁচু করা, যাতে জলাবদ্ধতায় ডুবে না যায়।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাতিল হওয়া ট্রেনের টিকিটের ভাড়ার টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পরিদর্শনকাল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন প্রমুখ।

এর আগে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে গ্যাংকারে করে ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনে যান তিনি। এই ধরনের গ্যাংকার রেললাইন পরিদর্শন ও মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও কর্মকর্তাদের নিয়ে গ্যাংকারে করে ষোলশহরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত যান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। গ্যাংকার থেকে নেমে হাঁটু পানি দেখতে পান তিনি। এখানেই মঙ্গলবার দুপুরের পর পানিতে আটকা পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস। রাতে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলে—দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে, দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।

রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ওই স্থানে প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে লাইন। এর জেরে বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে ছাড়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস মাঝপথে চট্টগ্রামে আটকে যায়, কক্সবাজার পৌঁছাতে পারেনি ট্রেনটি। বিকেল চারটায় সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :