দুর্দশায় হাতিয়ার জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ০৪:২০:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ০৪:২০:২১ অপরাহ্ন
ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নদ-নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। প্রায় প্রতিদিনই খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এর মধ্যে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে মাছ ধরায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ফলে জেলে, ঘাটশ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদার—সব মিলিয়ে এ পেশার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা সংকটে পড়েছে।

প্রতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ইলিশের প্রধান মৌসুম ধরা হয়। এ সময় হাতিয়ার জেলেরা মেঘনা নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ শিকারে ব্যস্ত থাকেন। বাংলাবাজার, কাজিরবাজার, সূর্যমুখী, দানারদোল, স্লুইসগেট, মোক্তারিয়া, নিঝুমদ্বীপ, বন্দরটিলা ও চেয়ারম্যানঘাটসহ উপজেলার প্রায় ২০টি মাছঘাট থেকে ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার মাছ ধরার নৌকা প্রতিদিন নদীতে নামে।

কিন্তু এ মৌসুমে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। বেশির ভাগ নৌকাই খালি হাতে ফিরছে। কেউ দু-একটি ইলিশ পেলেও তার দাম অনেক বেশি। মৌসুমের বড় একটি সময় পার হলেও অধিকাংশ জেলে এখনো লাভের মুখ দেখেননি।

জেলেরা জানান, প্রতিদিন নদীতে যেতে জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য খাতে খরচ বাড়ছে। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই ব্যয়ও উঠছে না। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। মাছের আকাল পড়ায় ঘাটগুলোতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছেন না। কাজের অভাবে সংকটে পড়েছেন ঘাটশ্রমিকেরাও।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ নিধন, নদীতে ডুবোচরের সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে মিশে মাছের আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মৌসুমের পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষের জীবিকা সরাসরি মাছ ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার।
 
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :