পদ্মা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। নদীঘেরা এসব এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে এখনো ভরসা নৌযানই। কিন্তু নৌ অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় গুরুতর রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করে। তবে চালক নিয়োগ ও জ্বালানির বরাদ্দ না থাকায় কোটি টাকার এই উদ্যোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্যটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ও ঘড়িসার ইউনিয়নের অংশবিশেষ এবং জাজিরার পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা চরাঞ্চল। এসব এলাকার মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্যই নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়িয়া উপজেলার নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে পড়ে রয়েছে। অব্যবহারে এটি প্রায় অকেজো হয়ে গেছে।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট অবস্থায় ছিল। চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে জাজিরা উপজেলার নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মঙ্গলমাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে রাখা ছিল। তবে সেটির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশা বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সম্ভবত চুরি হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।
নৌ অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন চরাঞ্চলের অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জাজিরার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গত দেড় বছরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে শাহিদা আক্তার (২৫), মিতু আক্তার (২২) ও নুরুন্নাহার (২৭) রয়েছেন।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদ আলী মল্লিক বলেন, তার চাচাতো বোন মিতুর প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পথে তার মৃত্যু হয়। একইভাবে আরও দুই নারী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারান।
কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ব্যাপারী বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরে বসবাস করেন। নৌ অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কখনোই সেটির সেবা পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার অভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে বলে জানা আছে। তবে এগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করে। তবে চালক নিয়োগ ও জ্বালানির বরাদ্দ না থাকায় কোটি টাকার এই উদ্যোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্যটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ও ঘড়িসার ইউনিয়নের অংশবিশেষ এবং জাজিরার পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা চরাঞ্চল। এসব এলাকার মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্যই নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়িয়া উপজেলার নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে পড়ে রয়েছে। অব্যবহারে এটি প্রায় অকেজো হয়ে গেছে।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট অবস্থায় ছিল। চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে জাজিরা উপজেলার নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মঙ্গলমাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে রাখা ছিল। তবে সেটির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশা বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সম্ভবত চুরি হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।
নৌ অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন চরাঞ্চলের অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জাজিরার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গত দেড় বছরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে শাহিদা আক্তার (২৫), মিতু আক্তার (২২) ও নুরুন্নাহার (২৭) রয়েছেন।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদ আলী মল্লিক বলেন, তার চাচাতো বোন মিতুর প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পথে তার মৃত্যু হয়। একইভাবে আরও দুই নারী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারান।
কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ব্যাপারী বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরে বসবাস করেন। নৌ অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কখনোই সেটির সেবা পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার অভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে বলে জানা আছে। তবে এগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন