পল্লী বিদ্যুতের বাড়তি বিল, বিপাকে কলাপাড়ার ৯০ হাজার গ্রাহক

আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১১:১২:২৭ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল গেল মাসের চেয়ে দেড় থেকে দুইগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গ্রাহকরা ভোগান্তির কবলে পড়েছেন। 

তারা অভিযোগ করেছেন, মিটার না দেখে অনুমান নির্ভর এমন বিল করায় তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গ্রাকদের জিম্মি করে মিটার পরিদর্শকরা এমন ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন অধিকাংশ গ্রাহককে। তারা এর প্রতিকার চেয়েছেন। অধিকাংশ গ্রাহকের দাবি লোডশেডিং ছিল। গেল মাসের চেয়ে বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বিল দেওয়া হয়েছে মে মাসের চেয়ে দ্বিগুণ, কোন কোন গ্রাহককে তিনগুণ বেশি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ রয়েছেন।

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব, কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসীন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানালেন, তার দুটি মিটারেই মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে। তিনি দেখালেন, একটি মিটারে জুন মাসে বিল দেওয়া হয়েছে, ৮০৫৫ টাকা, ৬৫০ ইউনিট। অথচ এই মিটারে গেল মাসে ইউনিট দেওয়া হয়েছে ৪২৫ ইউনিট। একইভাবে অপর মিটারে মে মাসে বিল দেওয়া হয় ৩১০ ইউনিট। যা এই মাসে দেওয়া হয়েছে ৪৫০ ইউনিট, ৪৬০৩ টাকা। তার দাবি, মিটার না দেখেই রিডিং বসিয়ে দেয়া হয়েছে। 

টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনীর বাসিন্দা মোঃ ফোরকান হাওলাদার জানালেন, তাঁদের ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেয়া হতো। কিন্তু শতাধিক পরিবার সবাইকে জুন মাসে দেড়-দুই গুণ বেশি বিল দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বেশি বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করা কষ্ট হচ্ছে। 

কুয়াকাটার বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদে দোকানি মো. জহির হোসেন জানালেন, তিনি ফি মাসে ৪০০-৪৫০ টাকার বিল দিতেন। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে শতকরা ৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের বিদ্যুৎবিল অনুমান নির্ভর করা হয়েছে। বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হয়েছে। 

গ্রাহকদের অভিযোগ, জুন মাসে লোডশেডিং ছিল। ইউনিট কম ব্যবহার করেছেন। অথচ উল্টো বিলে ইউনিট দেড়-দুই গুন বেশি দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেছেন, মিটার না দেখে অন্তত গড়ে প্রত্যেক গ্রাহকের ৩০-১০০ ইউনিট বাড়িয়ে বিল করা হয়েছে। যাতে এখানকার ৯০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ ইউনিটের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হাতিয়ে নেয়ার কাজটি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যা টাকার অংকে অন্তত সাড়ে চার কোটি টাকা। গ্রাহকরা এর থেকে পরিত্রাণ চেয়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কলাপাড়া জোনাল অফিসসূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীন ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। লোডশেডিং ছিল অথচ বিলে ইউনিট দেড় থেকে দুইগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :