তীব্র তাপে জীবন বিপর্যস্ত: ইউরোপে বেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন

আপলোড সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ০৪:২৪:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ০৪:২৪:৩৭ অপরাহ্ন
ইউরোপে চলমান তীব্র দাবদাহে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এতে কিছু দেশে বিদ্যুতের পাইকারি বাজারে দাম শূন্যের নিচে নেমে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিল কমাবে না। বরং অতিরিক্ত উৎপাদন, পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিড ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নতুন চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

এদিকে দাবদাহে ইউরোপে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে স্পেনে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বড় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে।

মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে দুপুরের সময় দেশের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হয়, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ফ্রান্সে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে পাইকারি বাজারে বিদ্যুতের দাম শূন্যের নিচে নেমে যায়। স্পেন ও পর্তুগালেও বছরের প্রথম তিন মাসে রেকর্ডসংখ্যক ঘণ্টা নেতিবাচক বিদ্যুৎ মূল্য দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি হয়ে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার চেয়ে কম বা নেতিবাচক দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করাকে লাভজনক মনে করে, কারণ বন্ধ ও পুনরায় চালুর খরচ বেশি হয় অথবা তারা ভর্তুকি পেয়ে থাকে।

তবে ইউরোপের বিদ্যুৎ গ্রিড এখনো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। অধিকাংশ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র দূরবর্তী এলাকায় থাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সহজে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছানো যায় না। এ কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্বারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত গ্রিড সক্ষমতার কারণে ইউরোপে প্রায় ১২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ গিগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যা ১৫ লাখের বেশি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা সমাধানে ব্যাটারি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বর্তমানে ইউরোপে ব্যাটারি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়লেও ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে এটি প্রায় ৭৫০ গিগাওয়াট-ঘণ্টায় উন্নীত করতে হবে।

অন্যদিকে দাবদাহ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে না, কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের উৎপাদনও ব্যাহত করছে। অতিরিক্ত গরমে ফ্রান্সের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল রাখতে ব্যবহৃত নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চচাপ বলয়ের কারণে বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালায় বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত তাপ সবসময় সুবিধাজনক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় প্রতি ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা প্রায় ০.৪ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ফলে প্রচুর রোদ থাকলেও অতিরিক্ত গরমে সৌর প্যানেলের দক্ষতা হ্রাস পেতে পারে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :