সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসপ্রায় চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি

আপলোড সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০১:১৯:০৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০১:২৯:৪৬ অপরাহ্ন
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি আজও বহন করে চলেছে বাংলার জমিদারি ঐতিহ্যের নানা স্মৃতি। একসময় জমিদারি প্রশাসন, বিচার-সালিশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এই প্রাসাদ বর্তমানে অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে জীর্ণ ও ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনের  ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে দ্রুত জরিপ ও সংস্কার কাজ প্রয়োজন।

ইতিহাস বলছে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে চৌগ্রাম জমিদারির গোড়াপত্তন হয়। জমিদার পরিবার এখানে আবাসিক ভবন, কাছারি, অতিথিশালা, মন্দির, পুকুর ও বিভিন্ন প্রশাসনিক স্থাপনা নিয়ে বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্স গড়ে তোলে। স্থাপত্যে মুঘল ও ইউরোপীয় নির্মাণশৈলীর প্রভাবও দেখা যায়।

একসময় এই জমিদার বাড়িকে ঘিরেই এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় আয়োজন ও জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগেও জমিদার পরিবারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাসাদের বেশির ভাগ অংশই এখন জরাজীর্ণ। মূল ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও ছাদের অংশ ধসে পড়েছে। অনেক স্থাপনার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।

প্রাসাদের চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও পুরোনো খিলান, দেয়াল ও অলংকরণ যেন অতীতের গৌরবময় দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ কারণেই এখনো বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন। শীতকাল ও ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুইট আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই জমিদার বাড়ির ইতিহাস শুনে আসছি। সংরক্ষণের অভাবে ভবনগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে একসময় হয়তো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

স্থানীয় শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, “চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি শুধু সিংড়া বা নাটোরের নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদ। সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি বড় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।”

পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে যেভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে চৌগ্রাম জমিদার বাড়িকেও সংরক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।”

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে চৌগ্রাম জমিদার বাড়িকে যুক্ত করে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন গিয়াস বলেন, “চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হলে এটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।”

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, “চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি সিংড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে এর সংরক্ষণ এবং পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :