সারের দাম বাড়ায় বিকল্প পথের সন্ধান

পরিবেশবান্ধব কৃষিতে ঝুঁকছেন চাষি

আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতেও। আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে সারের দাম। এতে দেশের কৃষকদের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আড়াই হাজার কৃষক খুঁজছেন ভিন্ন পথ। রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে তারা ঝুঁকছেন পরিবেশসম্মত কৃষি চর্চায়।

দেশে বছরে প্রায় ৬৮ লাখ টন রাসায়নিক সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে সরকার। দেশের কৃষি এখনও অনেকটাই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লেই বেড়ে যায় চাষাবাদের খরচ। আবার সংকটের সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন প্রান্তিক কৃষকরা।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষক মুন্নাফ হোসেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন তিনি। প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে উৎপাদন করেন নানা ধরনের সবজি। একসময় পুরোপুরি রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন তার জমির বড় অংশেই ব্যবহার হচ্ছে জৈব সার ও প্রাকৃতিক বালাইনাশক। এতে যেমন চাষের খরচ কমেছে, তেমনি আগের চেয়ে ভালো থাকছে জমির মাটিও।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কানাইগর কৃষক মো. মুন্নাফ হোসেন বলেন, ‘আগে অনেক সময় সার পাওয়া যাইতো না, ক্রাইসিস থাকতো। তখন আমাদের সঠিক সময়ে আমরা ফসল করতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমাদের সেই প্রবলেমটা প্রবলেমটা আর নাই। এখন আমাদের নিজের উৎপাদিত সার আমরা যখন খুশি তখন ব্যবহার করতে পারি।’

শুধু মুন্নাফ নন, সিংগাইরের চারটি ইউনিয়নের আড়াই হাজার কৃষক ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের নির্ভরতা থেকে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের 'গ্রিন ইভ্যুলেশন' প্রকল্পের আওতায় এসব কৃষককে দেওয়া হচ্ছে পরিবেশসম্মত কৃষিচর্চার প্রশিক্ষণ। কৃষকরা জানান, জৈব সারে দিয়া রাসায়নিকের পরিমাণ অনেকটা কমেছে। ফলে তাদের খরচটাও অনেকটা সাশ্রয় হইছে। সারের সংকট, বাড়তি উৎপাদন খরচ আর জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে দেশের কৃষি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন বাস্তবতায় পরিবেশসম্মত কৃষিচর্চাকে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 

গ্রিন ইভুলেশন প্রজেক্টের এগ্রোইকোলজি বিশেষজ্ঞ মো. ইশতিয়াক ইসলাম বলেন, ‘আমরা ২৫২০ জন কৃষককে নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষ এবং কীভাবে বাজার নির্ভরযোগ্যতা কমানো যায়, ইনপুট রিডাকশন কীভাবে কমানো যায়, উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং লাভ বেশি হওয়া যায়, সে বিষয়ের উপরে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হয়।’

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘রাসায়নিক সারের মাত্রাটাকে কমিয়ে জৈব সার, ট্রাইকো কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট এ সমস্ত সার ব্যবহারের মাধ্যমে যেন কৃষকেরা কৃষি কাজ করে। তাতে করে তাদের একদিকে যেমন সারের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে কিন্তু মাটির স্বাস্থ্য এবং গুণগত মান ভালো হবে।’ রাসায়নিক নির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে আসার এ উদ্যোগ এখনো সীমিত। তবে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে এটিই হতে পারে টেকসই কৃষির অন্যতম ভিত্তি।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :