পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চক্রান্ত হয়েছিল: মোদি

আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন
পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং বিশ্ব যোগ দিবসে যোগদান করতে দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং দিবসটিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজন করা হয় সভার। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানের জাঁকজমকে কোনো কমতি রাখেনি প্রশাসন। গোটা সভাস্থল মুড়ে ফেলা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে। 

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যটির হুগলি জেলার তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে রেল ও কৃষি ক্ষেত্রে একাধিক মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় দেয়া ভাষণে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যুক্ত করার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।

সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন, ‘পরাধীন থাকাকালীন সময়ে পশ্চিমবঙ্গ অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে, কত বলিদান দিয়েছে তার কোনো শেষ নেই। ১৯৪৬ সালের কলকাতাতে হিংসা, নোয়াখালীর দাঙ্গায় অনেক নির্দোষ বাঙালি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় পুরো বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার একটা ষড়যন্ত্র তৈরি হচ্ছিল, তখন পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠন করে সেই চক্রান্ত ভেস্তে দেয়া হয়। এর ফলে হাজারো বছরের ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরম্পরা রক্ষা পায়।’

মোদি আরও বলেন, ‘বাংলা একসময় ভাঙন, বিভাজন ও রক্তপাত সহ্য করেছে। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের সামনে আত্মসমর্পণ করে। সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চেষ্টায় হিন্দুরা জমি পেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের অংশ করা যাবে না। তার আন্দোলনের ফলেই আজ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ। ইতিহাসকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ভোলানোর চেষ্টা করেছে তারা।’

রাজ্যটির সরকার পরিবর্তন নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলার বাতাসে এখন নতুন সুগন্ধ। সব বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছে বাংলা, বাংলার গৌরব ফিরে আসা শুরু হয়েছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। আজকের প্রজন্মকে বারবার এই ইতিহাস জানাতে হবে। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর বাম এবং শেষে তৃণমূল, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের আখড়া বানিয়ে ফেলেছিল।’

রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর পরিস্থিতি কীভাবে বদলেছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুরোনো সরকারের আমলে এখান থেকে শিল্পপতিরা পালিয়ে যাচ্ছিলেন, অনুপ্রবেশ বাড়ছিল। মানুষ একজোট হয়ে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। এখন মানুষ নিজেদের অধিকার ফিরে পাচ্ছেন।’

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া প্রসঙ্গেও কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন সীমান্তে ফেন্সিং (কাঁটাতারের বেড়া) দেয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে, পূর্বতন রাজ্য সরকার দশকের পর দশক সেই প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল। নতুন সরকার হওয়ার পরেই সেই কাজ শুরু হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের প্রাদেশিক আইনসভায় রাজ্যটিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পাশ হয়, যার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের দিনক্ষণ নিয়ে রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক জারি ছিল। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ‘পয়লা বৈশাখের’ দিনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করা হতো। তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার স্থির করেছে, প্রতিবছর ২০ জুনই আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’।

বাংলাস্কুপ/ ডেস্ক/ এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :