এবার রিটার্ন জমা দিতেই হবে, না দিলে বাড়বে ঝামেলা

আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ১১:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ১১:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এমন কয়েকটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা শুধু রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতিই বদলাবে না, বরং দেশের লাখো মানুষকে প্রথমবারের মতো সরাসরি কর প্রশাসনের আওতায় নিয়ে আসবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, শহর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের বণ্টন, মিউটেশন (নামজারি) কিংবা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। অন্যদিকে বিনিয়োগে কর রেয়াতের সুবিধা কমানো হয়েছে। তবে করদাতাদের জন্য সুখবরও রয়েছে। আগামী বছর থেকে সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন দিলে কর ছাড় পাওয়া যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে করজাল সম্প্রসারণ, সম্পদ ও আয়ের তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং কর ফাঁকি কমানো। তবে এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর নতুন প্রশাসনিক চাপও তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো কর-জিডিপি অনুপাতের নিম্ন অবস্থান। দেশের অর্থনীতি বড় হলেও করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, দেশে কোটি কোটি মানুষ ব্যাংকিং, সম্পত্তি ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা এখনো খুব সীমিত।

এই বাস্তবতায় সরকার কর সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পদ, আয় ও আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কর প্রশাসন এখন আর শুধু কর আদায়ের দিকে নয়, বরং নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির দিকে এগোচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :