​৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে গুঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের দাপুটে জয়

আপলোড সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ১১:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ১১:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ২-২ গোলে সমতায় ছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে টমাস টুখেলের দল। জোড়া গোল করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

বিশ্বকাপে হাইভোল্টেজ ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। রাইস ডান দিক থেকে আউটসুইং কর্নার নেন। আর এখানেই পেনাল্টির দাবি ওঠে! মদ্রিচ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মাদুয়েকেকে পেটে আঘাত করে নিচে ফেলে দেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

কিন্তু হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে প্রথম চেষ্টায় গোল করতে পারেননি। কেইন বাঁ দিকে শট নেন, কিন্তু লিভাকোভিচ তা ঠেকিয়ে দেন। এরপর নাটকীয় মোড়!

গোলের আগে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার গভারদিওল পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন, লিভাকোভিচও গোললাইন থেকে কিছুটা আগে বেরিয়ে এসেছিলেন। তাই পেনাল্টি আবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এবার আর ভুল করেননি হ্যারি কেইন। ডান দিকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান (১-০), আর গোলরক্ষক লিভাকোভিচ ভুল দিকে দেন ঝাঁপ।

৩১ মিনিটে অসাধারণ একটি আক্রমণ করে ইংল্যান্ড। কেইন দারুণভাবে বল বাড়িয়ে দেন মাদুয়েকের দিকে। মাদুয়েকের নিচু ক্রস ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে। পেছন থেকে দৌড়ে এসে আক্রমণে যোগ দেন বেলিংহ্যাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বলে ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে পারেননি।

এর পাঁচ মিনিট পর (৩৬ মিনিটে) সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। সুসিচ দারুণ দক্ষতায় বল বাড়িয়ে দেন মার্টিন বাতুরিনার দিকে। ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডার পোস্টের উপরের বাম কোণের দিকে শট নেন। পিকফোর্ড হাত লাগাতে সক্ষম হলেও শটের গতি এত বেশি ছিল যে, তিনি তা ঠেকাতে পারেননি। বল জড়িয়ে যায় জালের পেছনে (১-১)।

৪২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলদাতা সেই হ্যারি কেইন! রাইস ডান দিক থেকে আউটসুইং কর্নার নেন। কেইন পেছন থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্তভাবে হেড করেন এবং বল পাঠিয়ে দেন নিচের বাম কোণে (২-১)।

তবে সেই লিড প্রথমার্ধেই আবার হারায় ইংল্যান্ড। দারুণভাবে তৈরি করা একটি গোলে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। তবে এখানে ইংল্যান্ডের রক্ষণেরও দোষ আছে।

পাসালিচ চমৎকারভাবে বলটি উপর দিয়ে বাড়িয়ে দেন। পেরিসিচ হেড করে বল নামিয়ে দেন পিটার মুসার সামনে। মুসা ঠান্ডা মাথায় দুর্দান্ত ভলিতে শট নিয়ে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন (২-২)। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে অ্যান্ডারসন দুর্দান্তভাবে বল বাড়িয়ে দেন মাদুয়েকেকে লক্ষ্য করে, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নেন বেলিংহাম।

রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা মিডফিল্ডার বল নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন এবং দারুণ এক শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন নিচের বাম কোণে (৩-২)। পরের মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে বেলিংহ্যামের জোরালো শট কোনোমতে আটকান ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক।

এগিয়ে থেকেও আক্রমণের পর আক্রমণ করতে থাকে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া অনেকটা সময় আটকে রেখেছিল থ্রি লায়ন্সদের। তবে ৮৫ মিনিটে ব্যবধান ৪-২ করে ফেলেন মার্কাস রাশফোর্ড।

ইংল্যান্ডের দারুণ একটি আক্রমণ থেকে গোলটি আসে। আক্রমণ শুরু করেন সাকা, যিনি রজার্সকে বল দেন। রজার্সের পাস ডিফ্লেক্ট হয়ে আবার সাকার কাছেই ফিরে আসে।

সাকা মাথা তুলে বাম পাশে ফাঁকা জায়গায় থাকা রাশফোর্ডকে খুঁজে নেন। রাশফোর্ড ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় শট নেন এবং বল পাঠিয়ে দেন গোলবারের নিচের ডান কোণে। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :