ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের নানা ধরনের আচরণ প্রায়ই দর্শকদের নজর কাড়ে। কেউ গোল উদযাপনে অভিনব কিছু করেন, কেউ প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তবে খেলা চলাকালে এমন একটি বিষয় প্রায়ই দেখা যায়, যা অনেকের চোখ এড়িয়ে যায়। ম্যাচের বিরতিতে বা খেলার মাঝখানে অনেক ফুটবলার বোতল থেকে পানি বা পানীয় মুখে নেন, কিছুক্ষণ কুলকুচি করেন এবং পরে তা ফেলে দেন। তারা কেন পানীয়টি গিলে ফেলেন না?
এই বিষয়টির পেছনে রয়েছে ক্রীড়া বিজ্ঞান, শারীরবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় সম্পর্ক। ফুটবল অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য একটি খেলা। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে খেলোয়াড়দের দৌড়াতে, স্প্রিন্ট দিতে, পাস করতে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে শারীরিক লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ফলে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক।
অনেকেই মনে করেন, খেলোয়াড়রা হয়তো সাধারণ পানি মুখে নিয়ে ফেলে দেন। বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাধারণ পানি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ একটি বিশেষ পানীয়। এই কৌশলকে বলা হয় কার্ব রিনজিং।
কার্ব রিনজিংয়ের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা গ্লুকোজ বা মাল্টোডেক্সট্রিনযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রাখেন। এরপর তা গিলে না ফেলে বাইরে ফেলে দেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পানীয়টি শরীরে প্রবেশ না করলেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ভেতরে কিছু বিশেষ রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। যখন কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ পানীয় মুখে নেওয়া হয়, তখন এই রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে শরীরে নতুন শক্তি আসছে। এর কারণে সাময়িকভাবে ক্লান্তির অনুভূতি কমে যায় এবং খেলোয়াড় নিজেকে আরও সতেজ ও কর্মক্ষম মনে করেন।
ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণাতেও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্পোর্টস নিউট্রিশন অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেটাবলিজম -এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় দিয়ে কুলকুচি করার পর ক্রীড়াবিদেরা তুলনামূলক কম ক্লান্তি অনুভব করেন এবং তাদের পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়।
গবেষকেরা জানান, এই পদ্ধতি খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। ফলে একই মাত্রার শারীরিক শ্রমও তাদের কাছে তুলনামূলক সহজ মনে হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিনজিংয়ের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। পেশাদার খেলাধুলায় এই সামান্য উন্নতিও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেকটি বড় কারণ হলো পেটের অস্বস্তি এড়ানো। ম্যাচ চলাকালে বারবার স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে অনেক সময় পেট ভারী লাগা, ফাঁপা ভাব বা হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঘন কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে। তাই খেলোয়াড়রা অনেক সময় পানীয়টি গিলে না ফেলে শুধু মুখে নিয়ে কুলকুচি করেন।
অর্থাৎ ফুটবল মাঠে পানি মুখে নিয়ে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়। এটি বিজ্ঞানসম্মত একটি কৌশল, যা খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে সাহায্য করে। ফুটবলের মতো উচ্চগতির খেলায় এই ছোট্ট কৌশলই কখনো কখনো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
এই বিষয়টির পেছনে রয়েছে ক্রীড়া বিজ্ঞান, শারীরবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় সম্পর্ক। ফুটবল অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য একটি খেলা। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে খেলোয়াড়দের দৌড়াতে, স্প্রিন্ট দিতে, পাস করতে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে শারীরিক লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ফলে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক।
অনেকেই মনে করেন, খেলোয়াড়রা হয়তো সাধারণ পানি মুখে নিয়ে ফেলে দেন। বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাধারণ পানি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ একটি বিশেষ পানীয়। এই কৌশলকে বলা হয় কার্ব রিনজিং।
কার্ব রিনজিংয়ের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা গ্লুকোজ বা মাল্টোডেক্সট্রিনযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রাখেন। এরপর তা গিলে না ফেলে বাইরে ফেলে দেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পানীয়টি শরীরে প্রবেশ না করলেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ভেতরে কিছু বিশেষ রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। যখন কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ পানীয় মুখে নেওয়া হয়, তখন এই রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে শরীরে নতুন শক্তি আসছে। এর কারণে সাময়িকভাবে ক্লান্তির অনুভূতি কমে যায় এবং খেলোয়াড় নিজেকে আরও সতেজ ও কর্মক্ষম মনে করেন।
ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণাতেও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্পোর্টস নিউট্রিশন অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেটাবলিজম -এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় দিয়ে কুলকুচি করার পর ক্রীড়াবিদেরা তুলনামূলক কম ক্লান্তি অনুভব করেন এবং তাদের পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়।
গবেষকেরা জানান, এই পদ্ধতি খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। ফলে একই মাত্রার শারীরিক শ্রমও তাদের কাছে তুলনামূলক সহজ মনে হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিনজিংয়ের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। পেশাদার খেলাধুলায় এই সামান্য উন্নতিও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেকটি বড় কারণ হলো পেটের অস্বস্তি এড়ানো। ম্যাচ চলাকালে বারবার স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে অনেক সময় পেট ভারী লাগা, ফাঁপা ভাব বা হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঘন কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে। তাই খেলোয়াড়রা অনেক সময় পানীয়টি গিলে না ফেলে শুধু মুখে নিয়ে কুলকুচি করেন।
অর্থাৎ ফুটবল মাঠে পানি মুখে নিয়ে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়। এটি বিজ্ঞানসম্মত একটি কৌশল, যা খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে সাহায্য করে। ফুটবলের মতো উচ্চগতির খেলায় এই ছোট্ট কৌশলই কখনো কখনো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন