বয়স্কভাতা প্রাপ্ত মোক্তার প্যাদা মারা গেছেন প্রায় এক বছর আগে। মৃত্যুর পরেও তার মোবাইল একাউন্টে (০১৮৭০৪৯১০০৯) ঢুকছে। সবশেষ কোরবানির সময় ১৭০০ টাকা পেয়েছেন। তার নাতি মো: রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মোবাইলে কল করলে রুবেল নিজে মোবাইলটি ব্যবহার করার দাবি জানিয়ে এসব নিশ্চিত করেন। একই গ্রামের বৃদ্ধ জয়নাল গাজীও কয়েকমাস আগে মারা গেছেন। এরপরও কোরবানির সময় তার একাউন্টে ১৯০০ টাকা পেয়েছেন বলে তার মেয়ে সালেহা বেগম নিশ্চিত করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া গ্রামের বাসীন্দা এসব মানুষ। একই গ্রামের বয়স্কভাতা প্রাপ্ত আমজেদ কাজী মারা গেছেন ২০২১ সালে। তার ছেলে আ: জব্বার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরপরও ১৫০০ টাকা বয়স্কভাতা পেয়েছেন। এভাবে গ্রামটির মৃত সেরাজ হাওলাদার, লাল মিয়া আকন, চান মিয়া হাওলাদার, আজাহার হাওলাদার মারা গেলেও তাঁদের মোবাইল একাউন্টে বয়স্কভাতার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মৃত্যুর কাগজপত্র হালনাগাদ করা হয়নি বলে এসব পরিবারের এখন যারা বয়স্কভাতা তুলছেন তাঁদের দাবি। অবিশ^াস্য এসব ঘটনা চলছে কলাপাড়ায়। সরকারি টাকার যেন কোন হিসাব নেই। নেই যথাযথ তদারকি। এভাবে মৃত ব্যক্তির তথ্য গোপন করে একশ্রেণির মানুষ বয়স্কভাতা উত্তোলন করে আসছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সর্বত্রই একই দৃশ্য। অন্তত ৯০০ মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলনের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাসে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক টাকা এভাবে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে।
চাকামইয়া ইউনিয়নের দফাদার মোঃ জানান, তারা মৃত ব্যক্তিদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত পৌছে দেন। এরপরের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা নাই। তবে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবার থেকে মূলত তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পর্যন্ত দেয়া হয় না। একারণেই এটি শতভাগ আপডেট করা নেই।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ৩০-১৩০ জন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি রয়েছেন কোন কোন ইউনিয়নে। যাদের মোবাইল একাউন্টে এখনো বয়স্কভাতার টাকা যাচ্ছে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ স্বজনরা মৃত্যুর তথ্য গোপন করে এই ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছে। এর মধ্যে এমনও ব্যক্তি রয়েছে যিনি ৩-৪ বছর আগে মারা গেছেন।
সূত্রমতে, ধুলাসার ইউনিয়নে বয়স্কভাতা প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে। অন্তত ১৩০ জন। যারা এখনো জীবিত হিসেবে ভাতা তুলছেন। একইভাবে অধিকাংশ ইউনিয়নে এসব তথ্য মিলেছে। তবে সবচেয়ে কম সংখ্যক মৃত ব্যক্তির ভাতা তোলার খবর মিলেছে মহিপুর ইউনিয়নে, ২৮ জন। মোট ৯২৭ মৃত ব্যক্তির নামে এভাবে বয়স্কভাতা যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অফিসসূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলায় বয়স্কভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১১ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে অসংখ্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু তাঁদের মোবাইল একাউন্টে রেগুলার ভাতার টাকা যাচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে যেসব বয়স্ক, অসচ্ছল ব্যক্তির বাৎসরিক আয় ১০ হাজার টাকা নিচে তারা বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত হবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সধারী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। তবে কোন ক্রমেই পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স ৬৫ নিচে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ এর নিচে নয়। বর্তমানে প্রতি মাসে এসব অসহায় বয়স্ক মানুষ ৬৫০ টাকা করে ভাতা পেয়ে আসছেন। তবে বর্তমান সরকার এই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বয়স্কভাতা প্রাপ্ত মৃতব্যক্তির তালিকা চুড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে এ সংক্রান্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুইএকদিনের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের চৌকিদারদের সহায়তায় উপজেলায় বয়স্কভাতা প্রাপ্ত নয় শতাধিক মৃত ব্যক্তিকে শণাক্ত করা হয়েছে। অতি দ্রুত এদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা আপডেট করা হবে। সমাজসেবা কর্মকর্তাকে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/মজেবাহউদ্দনি মাননু/কলাপাড়া/এনআইএন
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া গ্রামের বাসীন্দা এসব মানুষ। একই গ্রামের বয়স্কভাতা প্রাপ্ত আমজেদ কাজী মারা গেছেন ২০২১ সালে। তার ছেলে আ: জব্বার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরপরও ১৫০০ টাকা বয়স্কভাতা পেয়েছেন। এভাবে গ্রামটির মৃত সেরাজ হাওলাদার, লাল মিয়া আকন, চান মিয়া হাওলাদার, আজাহার হাওলাদার মারা গেলেও তাঁদের মোবাইল একাউন্টে বয়স্কভাতার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মৃত্যুর কাগজপত্র হালনাগাদ করা হয়নি বলে এসব পরিবারের এখন যারা বয়স্কভাতা তুলছেন তাঁদের দাবি। অবিশ^াস্য এসব ঘটনা চলছে কলাপাড়ায়। সরকারি টাকার যেন কোন হিসাব নেই। নেই যথাযথ তদারকি। এভাবে মৃত ব্যক্তির তথ্য গোপন করে একশ্রেণির মানুষ বয়স্কভাতা উত্তোলন করে আসছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সর্বত্রই একই দৃশ্য। অন্তত ৯০০ মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলনের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাসে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক টাকা এভাবে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে।
চাকামইয়া ইউনিয়নের দফাদার মোঃ জানান, তারা মৃত ব্যক্তিদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত পৌছে দেন। এরপরের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানা নাই। তবে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবার থেকে মূলত তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পর্যন্ত দেয়া হয় না। একারণেই এটি শতভাগ আপডেট করা নেই।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ৩০-১৩০ জন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি রয়েছেন কোন কোন ইউনিয়নে। যাদের মোবাইল একাউন্টে এখনো বয়স্কভাতার টাকা যাচ্ছে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ স্বজনরা মৃত্যুর তথ্য গোপন করে এই ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছে। এর মধ্যে এমনও ব্যক্তি রয়েছে যিনি ৩-৪ বছর আগে মারা গেছেন।
সূত্রমতে, ধুলাসার ইউনিয়নে বয়স্কভাতা প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে। অন্তত ১৩০ জন। যারা এখনো জীবিত হিসেবে ভাতা তুলছেন। একইভাবে অধিকাংশ ইউনিয়নে এসব তথ্য মিলেছে। তবে সবচেয়ে কম সংখ্যক মৃত ব্যক্তির ভাতা তোলার খবর মিলেছে মহিপুর ইউনিয়নে, ২৮ জন। মোট ৯২৭ মৃত ব্যক্তির নামে এভাবে বয়স্কভাতা যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অফিসসূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলায় বয়স্কভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১১ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে অসংখ্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু তাঁদের মোবাইল একাউন্টে রেগুলার ভাতার টাকা যাচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে যেসব বয়স্ক, অসচ্ছল ব্যক্তির বাৎসরিক আয় ১০ হাজার টাকা নিচে তারা বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত হবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সধারী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। তবে কোন ক্রমেই পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স ৬৫ নিচে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ এর নিচে নয়। বর্তমানে প্রতি মাসে এসব অসহায় বয়স্ক মানুষ ৬৫০ টাকা করে ভাতা পেয়ে আসছেন। তবে বর্তমান সরকার এই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বয়স্কভাতা প্রাপ্ত মৃতব্যক্তির তালিকা চুড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে এ সংক্রান্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুইএকদিনের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের চৌকিদারদের সহায়তায় উপজেলায় বয়স্কভাতা প্রাপ্ত নয় শতাধিক মৃত ব্যক্তিকে শণাক্ত করা হয়েছে। অতি দ্রুত এদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা আপডেট করা হবে। সমাজসেবা কর্মকর্তাকে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/মজেবাহউদ্দনি মাননু/কলাপাড়া/এনআইএন