চিকিৎসক লাঞ্ছিত: হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ডা. রফিকের

আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৭:৩৭:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৭:৩৭:২৭ অপরাহ্ন
স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর এ দায়িত্ব রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। 

বরিশালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেয়া বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। এ ধরনের ঘটনা রুখতে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

বিবৃতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রোগীর পরিবার ও স্বজনদের শোক, কষ্ট ও আবেগ আমরা সম্মান করি। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সেই শোক বা ক্ষোভকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক পেশা। চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন সীমিত জনবল, সীমিত সম্পদ, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শারীরিক অথবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে কিন্তু রিপোর্টিং রেট ছিলো মাত্র ২৭.৮ শতাংশ অর্থাৎ অধিকাংশ ঘটনা জানানোই হয় না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই ধরনের নিপীড়নের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন ডা. রফিকুল ইসলাম। 

চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের সুযোগ আছে, জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পথও খোলা আছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন চিকিৎসক বা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়; এটি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীর সেবা পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ধরনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত । একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। ডা, রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়. স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত, অনিরাপদ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসাসেবার ওপর এবং রোগীদেরকে বিদেশমূখী করবে। তাই স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :