ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই বৈঠক চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত হত্যা–সহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে ওঠা “পুশ ইন” অভিযোগ।
বাংলাদেশ পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
পুশ ইন ইস্যুতে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ
গত মে মাস থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চুক্তি ও যৌথ নির্দেশিকার লঙ্ঘন।
ঢাকা বলছে, ১৯৭৫ সালের যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকা, ২০১১ সালের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) এবং দুই দেশের ডিজি পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বৈঠকে এ বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নিরস্ত্র নাগরিকদের নির্যাতন, অনুপ্রবেশ, এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিও জানানো হবে।
ভারতের “ডিটেকশন–ডিলিশন–ডিপোর্ট” নীতি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নামে একটি অভিযান চলছে, যেখানে নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময় তালিকা দিয়ে ব্যক্তিদের যাচাই করতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালায়ও প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ রয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের কয়েকটি সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
একাধিক ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিছু এলাকায় বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া গত কয়েক মাসে হাজারের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগও তুলেছে ঢাকা, যদিও ভারত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।
কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও মনে করেন, নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের পুশ ইন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
সীমান্তে নজরদারি জোরদার
পুশ ইন ঠেকাতে ২৬ জেলার সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকের প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিজিবি–বিএসএফ বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও চোরাচালান ইস্যুতে অবস্থানগত পার্থক্য থাকায় আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত হত্যা–সহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে ওঠা “পুশ ইন” অভিযোগ।
বাংলাদেশ পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
পুশ ইন ইস্যুতে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক চাপ
গত মে মাস থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চুক্তি ও যৌথ নির্দেশিকার লঙ্ঘন।
ঢাকা বলছে, ১৯৭৫ সালের যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকা, ২০১১ সালের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) এবং দুই দেশের ডিজি পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বৈঠকে এ বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নিরস্ত্র নাগরিকদের নির্যাতন, অনুপ্রবেশ, এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিও জানানো হবে।
ভারতের “ডিটেকশন–ডিলিশন–ডিপোর্ট” নীতি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নামে একটি অভিযান চলছে, যেখানে নথিবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময় তালিকা দিয়ে ব্যক্তিদের যাচাই করতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালায়ও প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ রয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের কয়েকটি সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
একাধিক ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিছু এলাকায় বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া গত কয়েক মাসে হাজারের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগও তুলেছে ঢাকা, যদিও ভারত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।
কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও মনে করেন, নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের পুশ ইন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
সীমান্তে নজরদারি জোরদার
পুশ ইন ঠেকাতে ২৬ জেলার সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকের প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিজিবি–বিএসএফ বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও চোরাচালান ইস্যুতে অবস্থানগত পার্থক্য থাকায় আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন