কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা পুনর্বাসনের দাবিতে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যানকে ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড পৌছে দিলেন । রবিবার বেলা ১১ টায় হতদরিদ্র মানুষ পায়রা বন্দরের প্রধান ফটকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী অবস্থান করে ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা জানান। কলোনীর ভূমিহীন পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মু: আহসান হাবীব এই ঈদ কার্ডটি গ্রহণ করেন।
পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের পাশে ইটবাড়িয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের স্লোপে জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো ২০০৪ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন। তৎকালীন সরকার আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের স্লোপে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে বসবাসের সুযোগ দেয়। তখন জঙ্গল সাফ করে দীর্ঘ ২০ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনঝুঁকি নিয়ে তারা বসবাস করে আসছেন। নদীতে মাছ ধরে, ইট ভাটায় কাজ করে, নির্মাণ শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিক হিসাবে বিভিন্ন টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছেন এরা। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে এই বেড়িবাঁধকে প্রশস্থ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এই কাজ চলমান রয়েছে। ফলে তারা উচ্ছেদ শঙ্কায় পড়েন।
জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারের সদস্য লাইলী বেগম বলেন, আমরা পায়রা বন্দরের সবচেয়ে কাছের মানুষ। বন্দরের বিল্ডিং এর পাশের বাঁধের ঢালে থাকি। আমাদেরকে যে কোন সময়ে উচ্ছেদ করা হতে পারে। তাই এই ঈদে আমরা (পায়রা বন্দর) চেয়ারম্যানকে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত জানাইছি।
মোঃ ফোরকান হাওলাদার বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকছি। আজকে বন্দরের চেয়ারম্যান স্যারকে ঈদের দাওয়াত দিতে আসছি। ঈদের দিনে তিনি যদি একবার আমাদের কলোনী দেখতে আসেন তাহলেই আমাদের অবস্থা বুঝতে পারবেন।”
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের টিয়াখালীর প্রশাসনিক ভবনের সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসাবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে সাড়ে পাঁচ কিঃমিঃ রাস্তা নির্মাণ করার কাজ শুরু করেছে। এই রাস্তা নির্মাণের জন্য জিয়া কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী প্রায় ১৩৬টি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করা হবে। এই পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করে সেই জমির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাই উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হবে না বলে জানা যায়।
দরিদ্র পরিবারগুলোর আকুতি, পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের ক্ষতিপুরনের টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য কোন ধরনের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ অথবা সহায়তা করা হচ্ছে না। ফলে এই পরিবারগুলো নতুন করে বাস্তুভিটাহীন হতে যাচ্ছে।
শাহানা বেগম বলেন, “সরকারের প্রয়োজন হলে রাস্তা করবে তাতে আমাদের কোন অসুবিধা নাই কিন্তু আমরা যারা রাস্তার পাশে ভূমিহীন আছি আমাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু সরকার করে দিক। তাই অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবাররের মতো আমাদেরকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হোক।”
কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের একেবারেই কাছেই জিয়া কলোনীর অবস্থান। কিন্তু চেয়ারম্যান মহোদয় কখনো এখানে আসেননি। তাই তিনি ঈদের দিনে এই পরিবারগুলোকে দেখতে আসবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। সেই সাথে উচ্ছেদের আগেই এই পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের পাশে ইটবাড়িয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের স্লোপে জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো ২০০৪ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন। তৎকালীন সরকার আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের স্লোপে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে বসবাসের সুযোগ দেয়। তখন জঙ্গল সাফ করে দীর্ঘ ২০ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনঝুঁকি নিয়ে তারা বসবাস করে আসছেন। নদীতে মাছ ধরে, ইট ভাটায় কাজ করে, নির্মাণ শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিক হিসাবে বিভিন্ন টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছেন এরা। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে এই বেড়িবাঁধকে প্রশস্থ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এই কাজ চলমান রয়েছে। ফলে তারা উচ্ছেদ শঙ্কায় পড়েন।
জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারের সদস্য লাইলী বেগম বলেন, আমরা পায়রা বন্দরের সবচেয়ে কাছের মানুষ। বন্দরের বিল্ডিং এর পাশের বাঁধের ঢালে থাকি। আমাদেরকে যে কোন সময়ে উচ্ছেদ করা হতে পারে। তাই এই ঈদে আমরা (পায়রা বন্দর) চেয়ারম্যানকে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত জানাইছি।
মোঃ ফোরকান হাওলাদার বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকছি। আজকে বন্দরের চেয়ারম্যান স্যারকে ঈদের দাওয়াত দিতে আসছি। ঈদের দিনে তিনি যদি একবার আমাদের কলোনী দেখতে আসেন তাহলেই আমাদের অবস্থা বুঝতে পারবেন।”
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের টিয়াখালীর প্রশাসনিক ভবনের সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসাবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে সাড়ে পাঁচ কিঃমিঃ রাস্তা নির্মাণ করার কাজ শুরু করেছে। এই রাস্তা নির্মাণের জন্য জিয়া কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী প্রায় ১৩৬টি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করা হবে। এই পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করে সেই জমির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাই উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হবে না বলে জানা যায়।
দরিদ্র পরিবারগুলোর আকুতি, পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের ক্ষতিপুরনের টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য কোন ধরনের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ অথবা সহায়তা করা হচ্ছে না। ফলে এই পরিবারগুলো নতুন করে বাস্তুভিটাহীন হতে যাচ্ছে।
শাহানা বেগম বলেন, “সরকারের প্রয়োজন হলে রাস্তা করবে তাতে আমাদের কোন অসুবিধা নাই কিন্তু আমরা যারা রাস্তার পাশে ভূমিহীন আছি আমাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু সরকার করে দিক। তাই অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবাররের মতো আমাদেরকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হোক।”
কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের একেবারেই কাছেই জিয়া কলোনীর অবস্থান। কিন্তু চেয়ারম্যান মহোদয় কখনো এখানে আসেননি। তাই তিনি ঈদের দিনে এই পরিবারগুলোকে দেখতে আসবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। সেই সাথে উচ্ছেদের আগেই এই পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন