​গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৪:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৫:৫৬:২২ অপরাহ্ন
গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৬-১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো। তবে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে সেটিও ওই বাড়তি দামের সঙ্গে যোগ করার আবেদন করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এছাড়া বেসরকারি স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের ক্রস-সাবসিডি তুলে বাণিজ্যিক শ্রেণির আওতায় নেয়ার প্রস্তাব দেয় কিছু বিতরণ কোম্পানি।

আলাদা আলাদা প্রস্তাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এই বিশাল ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ডিপিডিসি, ডেসকো, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো এবং নেসকো।

বিপিডিবি গণশুনানিতে জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ট্যারিফ বজায় থাকলে তাদের প্রতি ইউনিটে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াবে ২৯ পয়সা। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি সমন্বয় করার অজুহাতে তারা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

রাজধানীর একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি গড়ে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বর্তমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে তাদের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাবে।

ঘাটতি পূরণে ডিপিডিসি কিছু নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে সিকিউরিটি চার্জ আদায় করা এবং যেসব গ্রাহকের পাওয়ার ফ্যাক্টর কম, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া, যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ট্যারিফ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করার এবং বস্তি এলাকায় কক্ষভিত্তিক ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর সুপারিশ করেছে তারা।

ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চল, মিরপুর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ডেসকো জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত তিন বছরে তাদের মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও ঘাটতি মোকাবিলা করতে সংস্থাটি গড়ে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। 

দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গড়ে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা হলেও লোকসান এড়িয়ে সংস্থাটিকে সচল রাখতে এই মূল্য কমপক্ষে ৯ টাকা করা জরুরি।

দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকো জানিয়েছে, বিগত দিনগুলোতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই তুলনায় খুচরা পর্যায়ের ট্যারিফ সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণে তাদের ৮৫ পয়সারও বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংস্থাটি আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। 

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি নেসকো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ক্রয় এবং তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিতরণ ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাদের নিজস্ব বিতরণ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৬৬ পয়সায় গিয়ে পৌঁছাবে। এই ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং নতুন পাইকারি মূল্যের ওপর ভিত্তি করে খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ বা বাড়ানোর জন্য বিইআরসির কাছে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণশুনানিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাখ্যান করেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ অংশীজনরা। বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের দায় গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তারা বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশের বিভিন্ন বিতরণী কোম্পানির মেগাপ্রকল্পগুলোতে হয়েছে লুটপাট। এ কারণে বিদ্যুৎ বিতরণীতে ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি আর অপচয় রোধ করা গেলে বিদ্যুতের দাম অনেক কমানো সম্ভব।

এর আগে বুধবার (২০ মে) শুনানিতে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আর পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিট ১৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :