​রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলারের সহায়তা চাইল জাতিসংঘ

আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৭:২৩:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৭:২৩:৪৫ অপরাহ্ন
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চলতি বছরের জরুরি চাহিদা মেটাতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা আহ্বান জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা।

বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ২০২৬ সালের জন্য এই সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।

পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই পরিকল্পনা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং সীমিত পরিসরের’। এর মাধ্যমে শরণার্থী এবং বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো হবে।

“৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলারের এই আবেদনটি ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম, এটি জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখার জন্য শুধুমাত্র ন্যূনতম প্রয়োজনটুকু মেটাবে।”

এর মধ্যে খাদ্যের জন্য ২৪ কোটি ৭৩ লাখ, বাসস্থানের জন্য ১২ কোটি ৮ লাখ কোটি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য ৬ কোটি ১২ লাখ, শিক্ষার জন্য ৫ কোটি ২৭ লাখ, স্বাস্থ্যের জন্য ৪ কোটি ৯৯ লাখ এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার রাখার কথা বলেছে জাতিসংঘ।

এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সব খাত মিলিয়ে ৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে জেআরপিতে। এই আবেদনে ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থাসহ ৯৮টি মানবিক অংশীদার সমর্থন জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই সমাধান হল শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সাথে এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।

“মিয়ানমারের পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য, এটি কেবল মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যেন অবহেলিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রায় ৫৪২ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

“এর ফলে বাংলাদেশ জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে পেরেছে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনও উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলো তাদের অর্জিত মূল্যবান অগ্রগতি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।”

জেআরপি প্রকাশের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ডেপুটি হাই কমিশনার কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, "যেহেতু সম্পদ সীমিত হয়ে আসছে, তাই শরণার্থীদের দক্ষতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে, আশা ধরে রাখতে পারে এবং নিজেদের জীবন নতুন করে গড়তে পারে।"

তিনি বলেন, "রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সেখানে নিজেদের সমাজ নতুন করে গড়তে পারার আগ পর্যন্ত, তারা এখন যেখানে আছে সেখানেই তাদের নিরাপত্তা, যত্ন এবং মর্যাদা প্রদান আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সম্পদ ক্রমাগত কমে যাওয়ার এই সময়ে মানবিক সম্প্রদায় যতটা সম্ভব দক্ষতার সাথে এই সহায়তা পৌঁছে দিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

“কিন্তু চাহিদা এখনও বিশাল, এবং তহবিল হ্রাসের কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর এর যে বাস্তব প্রভাব পড়ছে, তা কেবল দক্ষতা দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। শরণার্থী সম্প্রদায়কে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে সাহায্য করা আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।”

ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পার্টনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রানিয়া দাগাশ-কামারা এবং ইউএন উইমেন-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :