ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা

আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০২:২০:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০২:২০:৫৫ অপরাহ্ন
আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী এবং চালকেরা। যমুনা সেতুতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, এলেঙ্গায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারসহ চার লেনের চলমান উন্নয়ন কাজ, সম্ভাব্য বৃষ্টি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্যকে এই শঙ্কার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা।

মহাসড়কের যাত্রী ও চালকদের দাবি, এবারও যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এদিকে যানজট নিরসনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ, জেলা পুলিশ ও সাসেক-২ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের অন্তত ২৩ জেলার কোটি মানুষের ভরসা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। গত কোরবানির ঈদে ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছিল।

এদিকে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেনের কাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক সময়েও যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা পুলিশ, সাসেক-২ প্রকল্পের দায়িত্বপাপ্তরা নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কোথাও খানাখন্দ ভরাটের কাজ চলছে, আবার কোথাও সড়ক প্রস্থতার কাজ চলছে। এছাড়াও সড়ক মার্কিং এর কাজও চলমান রয়েছে।

বগুড়াগামী জেনিন পরিবহনের চালক আবুল কাশেম বলেন, গত রোজার ঈদে চন্দ্র থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছে ১৫ ঘণ্টার বেশি। এবার গরুর ট্রাক-পিকআপ চলায় যানজটের আরো বেশি ভোগান্তি হতে পারে। এছাড়াও বৃষ্টিতেও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ হবে।

সিরাজগঞ্জগামী মাইক্রোবাসের চালক চান মিয়া বলেন, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এখনই যানজট লেগে থাকে। আধা মিনিটের সড়ক যেতে লাগে অন্তত ১৫ মিনিট। পুলিশ চালকদের মামলার নামে হয়রানি করলেও যানজট নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেয়া না। ঈদে এই ভোগান্তি আরো বাড়বে কয়েক গুণ।

হানিফ পরিবহনের বাসচালক গোপাল সিকদার বলেন, বড় গাড়ির কারণে কখনও যানজট হয় না। ফিটনেসবিহীন ছোট ও মাঝারি যানবাহনের চালকরা এলোমেলো গাড়ি চালানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ওই সব যানবাহনের চালক ও হেলপাররা যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামানোর কারণেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

সাসেক ২ প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, ঈদ উপলক্ষে ২৪ মের পর উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকবে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকলেও কোনো ভোগান্তি হবে না। যতটুকু সড়ক দখল করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রস্থতা বাড়ানো হয়েছে।

যমুনা সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গত ঈদযাত্রায়  সড়ক দুর্ঘটনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকলসহ ৭ দিনে ৯১টি ঘটনার কারণে বেগ পোহাতে হয়েছে। আসন্ন ঈদে গরুবাহী যানবাহনের চাপ সামাল দেয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় পাশে আলাদা মোটরসাইকেলের লেনসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে আট শতাধিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :