​নতুন করে যুদ্ধের হুমকি, ইরানের টেলিভিশন ও রাস্তায় অস্ত্রের মহড়া

আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ১২:২৬:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ১২:২৭:১৭ অপরাহ্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুমকির পর তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাস্তায় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যাপকভাবে অস্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেহরানের আলবোর্জ পর্বতমালায় অন্ধকার নেমে আসতেই প্রতিদিন হাজার হাজার ইরানি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাস্তায় নেমে আসছেন। তেহরানের অন্যতম অভিজাত এলাকা তাজরিষ স্কয়ারের কাছে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে 'আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগান।

সেখানে এক সমাবেশে অংশ নেওয়া তিয়ানা নামের এক তরুণী মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে লিখেছেন, ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, অন্যথায় তাদের অস্তিত্বের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের এই বার্তা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে এই হুমকির মুখেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সমাবেশে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধ নাগরিক জানান, তাদের পরমাণু প্রযুক্তি সীমানার মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা কোনো বোমা নয়, বরং পরিচ্ছন্ন শক্তির জন্য এই প্রযুক্তি চান। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এক ধরনের অনিবার্য যুদ্ধের মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই অস্থিরতার মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের রাস্তায় জনসম্মুখে 'অস্ত্র প্রশিক্ষণ বুথ' বা কিওস্ক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র চালনার প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হচ্ছে। ভেনাক স্কয়ারের এমনই একটি বুথে কালো চাদর পরা নারীদের একে-৪৭ রাইফেল সংযোজন এবং বিয়োজন শিখতে দেখা গেছে। এমনকি ছোট শিশুদেরও সেখানে খালাসনিকভ রাইফেল হাতে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে।

এই অস্ত্র ধারণের আহ্বান এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় ওফোগ চ্যানেলের উপস্থাপক হোসেন হোসেইনি লাইভ অনুষ্ঠানে আইআরজিসির এক সদস্যের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর স্টুডিওর ছাদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে গুলি ফুরেন। একইভাবে চ্যানেল-থ্রির আরেক নারী উপস্থাপিকা মবিনা নাসিরিও দর্শকদের উদ্দেশ্যে লাইভ শো-তে অস্ত্র হাতে নিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের মতো তিনিও অস্ত্র চালানো শিখছেন।

তবে এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বাইরে ইরানের একটি বড় অংশ শান্তির পক্ষেও কথা বলছেন। তাজরিষ স্কয়ারের রাজনৈতিক সমাবেশের ঠিক পাশেই একটি শান্ত পার্কে অনেক ইরানি নাগরিককে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখা যায়। সেখানে এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, তারা কেবল একটি স্বাভাবিক দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চান, যেখানে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে। সরকারি কঠোর প্রচারণার ডামাডোলে এই শান্তির কণ্ঠস্বরগুলো ঢাকা পড়ে গেলেও, যুদ্ধ আর শান্তি নিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষের মাঝে স্পষ্ট মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :