শাপলায় 'ইলেকট্রিক ব্ল‍্যাক আউট'

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় যে ব্যাখ্যা দেয় ডিপিডিসি

আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ০৩:৫৪:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ০৩:৫৬:৪২ অপরাহ্ন
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাত সাতটা ৪৫ মিনিট থেকে পৌনে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট ফিডারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় মেরামতের পর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পাঠানো চিঠির উত্তরে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ডিপিডিসির মতিঝিল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সেলিমুর রহমান এসব তথ্য জানান। 

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ডিপিডিসিতে চিঠি দিয়ে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙখলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় "ইলেকট্রিক ব্ল‍্যাক আউট" সংক্রান্ত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ডিপিডিসির মতিঝিল ডিভিশন বিদ্যুৎ বন্ধের রেজিস্টার থেকে ওই দিনের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে তদন্ত সংস্থায় চিঠি পাঠায়।

তদন্ত সংস্থা জানতে চায়
০৫ মে ২০১৩ ইং তারিখ দিবাগত রাতে এনওসিএস মতিঝিলের কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ ছিল?
ডিপিডিসি জানায়
০৫ মে ২০১৩ তারিখ দিবাগত রাতে এনওসিএস মতিঝিল, ডিপিডিসির আওতায় পিডিবি ডিজাইন ১১ কেভি ফিডার বন্ধ ছিল। যাহা ১৮/২০, মতিঝিল বণিজ্যিক এলাকার ALICO ভবন হতে দৈনিক ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত রাস্তার পশ্চিম পার্শ্ব এলাকা।

তদন্ত সংস্থা জানতে চায়
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল অর্থাৎ রাত কয়টা হতে কয়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল?
ডিপিডিসি জানায়
রাত ১৯:৪৫ মিনিট হতে ২১:৩০ মিনিট পর্যন্ত অর্থাৎ ১ঘন্টা ৪৫ মিনিট বন্ধ ছিল।

তদন্ত সংস্থা জানতে চায়
কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য 
ডিপিডিসি জানায়
১৮/২০, মতিঝিল আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (ALICO) ভবনের নিজস্ব উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওভার কারেন্ট ও আর্থ ফল্ট রিলে প্রদর্শিত হয়ে বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ হয়ে যায়। উক্ত ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ০৫ মে ২০১৩ ইং দিবাগত রাত ২১:৩০ মিনিট সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয় (ALICO ভবন ব্যতিত)। ০৬/০৫/২০১৩ ইং তারিখ আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি (ALICO) ভবনের ত্রুটি মেরামত করে সকাল ৯:২০ মিনিট সময়ে উক্ত ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। যাহা বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেজিস্টার খাতার ৬১ নং পাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

তদন্ত সংস্থা জানতে চায়
কার নির্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার পরিচিতি এবং ব্যক্তি বা বিভাগ হলে উহার সুনির্দিষ্ট তথ্য
ডিপিডিসি জানায়
বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেজিষ্টার খাতা হতে দেখা যায়, কারো নির্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়নি। আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি (ALICO) ভবনের (১৮/২০, মতিঝিল বা/এ) নিজস্ব ভবনে স্থাপিত উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সচরাচর বৈদ্যুতিক লাইন বা উপকেন্দ্রে ত্রুটি বা বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝড়ো হাওয়া বা অতিবর্ষণ বা বজ্রপাত ইত্যাদি কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়। উক্ত দিন দিবাগত রাত্রে আমেরিকান লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি (ALICO) ভবনের (১৮/২০ মতিঝিল বা/এ) নিজস্ব উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় (বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেজিস্টার খাতায় ৬১ নং পাতা হতে সংগৃহীত)।

তদন্ত সংস্থা জানতে চায়
ওই সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা সরবরাহের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম পদবী ও ঠিকানা
ডিপিডিসি জানায়
দপ্তর প্রধান হিসাবে প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান, ম্যানেজার (টেকনিক্যাল), এনওসিএস কমলাপুর, ডিপিডিসি'তে কর্মরত ছিলেন (এনওসিএস কমলাপুর, পরবর্তীতে এনওসিএস মতিঝিল দপ্তর হিসাবে পরিবর্তিত হয়)। তিনি অবসর গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। অবসর পরবর্তী তার ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেজিস্টার খাতা হতে দেখা যায় ০৫/০৫/২০১৩ইং তারিখ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ডিউটি অফিসার হিসাবে মো. শের আলী, সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরী) কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে এনওসিএস সার্কেল ডেমরা, ডিপিডিসি'তে কর্মরত আছেন (ডিপিডিসি'র আইডি নং-১১০৮৯)। 

কারিগরি দলে ছিলেন কাজী নাসির উদ্দিন, ফোরম্যান (তিনি অবসর গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়)। আনছার আহম্মেদ, লাইনম্যান (তিনি গত ১৫/০৩/২০২৫ইং তারিখ নির্বাহী প্রকৌশলী, এনওসিএস নারিন্দা, ডিপিডিসি দপ্তর হতে অবসর গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়, ডিপিডিসি'র আইডি নং-১৪৯০৫ ছিল)। মোহাম্মদ মাহাবুবুল হোসেন ভূঞা, লাইনম্যান মেট (তিনি বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী, এনওসিএস মুগদা দপ্তরে লাইনম্যান মেট হিসাবে কর্মরত আছেন। ডিপিডিসি এর আইডি নং-২১২২৫)। মো. আব্দুর রহমি, লাইনম্যান মেট (তিনি বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিস্টেম প্রটেকশন, ডিপিডিসি দপ্তরে কর্মরত আছেন। ডিপিডিসি এর আইডি নং-২১২২৬)।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ঘটনার সময়ে ওই এলাকা এনওসিএস কমলাপুরের আওতায় ছিল। এনওসিএস কমলাপুর দপ্তরের নাম পরিবর্তন হয়ে এনওসিএস মতিঝিল দপ্তরে রুপান্তরসহ অফিসটি ১৪৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে। এনওসিএস কমলাপুর, ডিপিডিসি দপ্তরটি ভেঙ্গে বহুতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মিত হয়ে ডিপিডিসির গ্রীডসহ একাধিক দপ্তর হয়েছে। ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের সময় তৎকালীন অফিসের রেকর্ডপত্রাদি কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে তাহার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। 

শুধুমাত্র বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেজিস্টার খাতা থেকে চাহিদাকৃত তথ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য প্রেরণ করা হলো বলে জানিয়েছেন ডিপিডিসির মতিঝিল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সেলিমুর রহমান।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় চিঠির সঙ্গে বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিদ্যুৎ বন্ধের রেজিস্টার খাতার সত্যায়িত ফটোকপি ও দপ্তরে সংরক্ষিত বোর্ড থেকে দপ্তর প্রধানদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

​আলোচনায় শাপলা চত্বরের 'ব্ল্যাক আউট'
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :