রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের হটাতে আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাক আউট) করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই ব্ল্যাক আউটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তাদের গ্রেপ্তারে দ্রুতই পরোয়ানা জারি করতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জানা গেছে, ওই সময়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) মতিঝিল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন মো. হাবিবুর রহমান, মতিঝিল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন মো. মহিউদ্দিন এবং প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল) ছিলেন খালিকুজ্জামান। তাঁরা বর্তমানে অবসরে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাপলা চত্বরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম মামলা করায় ট্রাইব্যুনাল বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। নারকীয় এ ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারা, কীভাবে জড়িত এবং এর মূল হোতা কারা ছিলেন, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ডিপিডিসির মতিঝিল সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি পাঠায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এতে বলা হয়, গত ০৫ মে ২০১৩ তারিখ শাপলা চত্বর, মতিঝিল, ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে উক্ত তারিখ দিবাগত রাতে আইন-শৃংখলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ করা যা "ইলেকট্রিক ব্ল্যাক আউট" হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে "ইলেকট্রিক ব্ল্যাক আউট” করা সংক্রান্তে আপনার দপ্তর কর্তৃক নিম্নলিখিত তথ্যাদি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
চিঠিতে যেসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়-
১. ০৫ মে ২০১৩ তারিখ দিবাগত রাতে এনওসিএস সার্কেল, মতিঝিলের কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
২. বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল অর্থাৎ রাত কয়টা হতে কয়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
৩. কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
৪. কার নির্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার পরিচিতি এবং ব্যক্তি বা বিভাগ হলে উহার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
৫. ঐ সময়কালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা সরবরাহের কাজে দায়িত্ব প্রাপ্তদের নাম।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, চিঠি পাঠানোর পরই চাহিদা মোতাবেক তথ্য তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, তৎকালীন সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশেই ওই রাতে শাপলা চত্বর, মতিঝিল এবং এর আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। আর এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা 'পুরস্কারস্বরূপ' বিভিন্ন জায়গায় লোভনীয় পোস্টিং ও পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞের তদন্ত জোরালো হয়। উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য-উপাত্ত। সূত্রের দাবি, ওই রাতের ব্ল্যাক আউটের সঙ্গে ডিপিডিসির কারা কারা জড়িত ছিলেন, তদন্ত সংস্থা তাদের খোঁজ-খবর নেয়ার পর থেকেই অনেকেই রয়েছেন গ্রেপ্তার আতংকে। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়েছেন তথ্য-উপাত্ত। সূত্র বলছে, দ্রুতই দায়ীদের আনা হবে আইনের আওতায়। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জারি করা হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে। সমাবেশ ঘিরে দিনভর ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। ওই সময় সরকার উৎখাতের আন্দোলন হচ্ছে বলে শাপলা চত্বর থেকে সমাবেশ উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
৫ মে দিন গড়িয়ে রাত হলে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নাম দিয়ে এক ভয়াবহ অভিযানে মতিঝিল-শাপলা চত্বর এলাকা বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে শাপলা চত্বর, মতিঝিল এবং এর আশপাশ এলাকায় ব্ল্যাক আউট করে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। ওই অভিযানে ৩২ জন নিহতের প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রায় শেষ বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। নিহতদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। পরের দিন নারায়ণগঞ্জে আরও প্রায় ২০ জনের মতো নিহত হন। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লাতে একজন নিহত হয়েছেন।
এ মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
বাংলা স্কুপ/বিশেষ প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
জানা গেছে, ওই সময়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) মতিঝিল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন মো. হাবিবুর রহমান, মতিঝিল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন মো. মহিউদ্দিন এবং প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল) ছিলেন খালিকুজ্জামান। তাঁরা বর্তমানে অবসরে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাপলা চত্বরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম মামলা করায় ট্রাইব্যুনাল বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। নারকীয় এ ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারা, কীভাবে জড়িত এবং এর মূল হোতা কারা ছিলেন, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ডিপিডিসির মতিঝিল সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি পাঠায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এতে বলা হয়, গত ০৫ মে ২০১৩ তারিখ শাপলা চত্বর, মতিঝিল, ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে উক্ত তারিখ দিবাগত রাতে আইন-শৃংখলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ করা যা "ইলেকট্রিক ব্ল্যাক আউট" হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে "ইলেকট্রিক ব্ল্যাক আউট” করা সংক্রান্তে আপনার দপ্তর কর্তৃক নিম্নলিখিত তথ্যাদি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
চিঠিতে যেসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়-
১. ০৫ মে ২০১৩ তারিখ দিবাগত রাতে এনওসিএস সার্কেল, মতিঝিলের কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
২. বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল অর্থাৎ রাত কয়টা হতে কয়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
৩. কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
৪. কার নির্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় তার পরিচিতি এবং ব্যক্তি বা বিভাগ হলে উহার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
৫. ঐ সময়কালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা সরবরাহের কাজে দায়িত্ব প্রাপ্তদের নাম।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, চিঠি পাঠানোর পরই চাহিদা মোতাবেক তথ্য তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, তৎকালীন সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশেই ওই রাতে শাপলা চত্বর, মতিঝিল এবং এর আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। আর এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা 'পুরস্কারস্বরূপ' বিভিন্ন জায়গায় লোভনীয় পোস্টিং ও পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞের তদন্ত জোরালো হয়। উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য-উপাত্ত। সূত্রের দাবি, ওই রাতের ব্ল্যাক আউটের সঙ্গে ডিপিডিসির কারা কারা জড়িত ছিলেন, তদন্ত সংস্থা তাদের খোঁজ-খবর নেয়ার পর থেকেই অনেকেই রয়েছেন গ্রেপ্তার আতংকে। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়েছেন তথ্য-উপাত্ত। সূত্র বলছে, দ্রুতই দায়ীদের আনা হবে আইনের আওতায়। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জারি করা হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে। সমাবেশ ঘিরে দিনভর ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। ওই সময় সরকার উৎখাতের আন্দোলন হচ্ছে বলে শাপলা চত্বর থেকে সমাবেশ উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
৫ মে দিন গড়িয়ে রাত হলে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নাম দিয়ে এক ভয়াবহ অভিযানে মতিঝিল-শাপলা চত্বর এলাকা বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে শাপলা চত্বর, মতিঝিল এবং এর আশপাশ এলাকায় ব্ল্যাক আউট করে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। ওই অভিযানে ৩২ জন নিহতের প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রায় শেষ বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। নিহতদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। পরের দিন নারায়ণগঞ্জে আরও প্রায় ২০ জনের মতো নিহত হন। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লাতে একজন নিহত হয়েছেন।
এ মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
বাংলা স্কুপ/বিশেষ প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে