স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের মনোযোগ চান সবাই

আজ শুরু ৪ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন

আপলোড সময় : ০৩-০৫-২০২৬ ১০:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৫-২০২৬ ১০:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রংপুরে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল, নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর, সরকারি পিপি ও জিপি নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। ডিসিরা বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারকে আরও মনোযোগ দিতে হবে। স্টেশনে চিকিৎসক উপস্থিত নিশ্চিতে ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগ দিতে হবে নার্সসহ সহায়ক জনবল। ডিসি সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য দাখিল করা ৪৯৮টির মধ্যে ৪৪টি প্রস্তাবই স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বলে জানা গেছে।

এছাড়া অন্য প্রস্তাবের মধ্যে পুলিশকে আরও বেশি জবাবদিহির আওতাসহ থানায় করা সাধারণ ডায়েরির বিষয় ডিসিকে অবহিত করা। শনিবার বিকালে ডিসি সম্মেলন উপলক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সচিব ড. নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলম এবং তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (আজ) থেকে শুরু হওয়া ৪ দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এতে মোট ৩৪টি অধিবেশন হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় নিয়ে সরকার গঠনের পর এটিই তাদের প্রথম ডিসি সম্মেলন। ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও বৈঠক হবে ডিসিদের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়-এবার সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা, স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার ও পুনর্বাসন থাকবে আলোচ্য বিষয়ের তালিকায়। এ ছাড়াও থাকছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্যবিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার, তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের নানা দিক।

জানা গেছে, এবারের প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে-জাতীয় বাজেটের অর্থ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ছাড় করা, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক আট লেনে উন্নীত করা, চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, জেলাভিত্তিক দরিদ্র পরিবার ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করা, সব শিশুর শিখন নিশ্চিত করতে একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা, কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানে শিক্ষক নিয়োগ করা ইত্যাদি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শুধু ডিসিদের প্রস্তাব নিয়েই সম্মেলনে আলোচনা হয় না। সরকার কি চায়, কখন কিভাবে চায়, তা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সরকারের দায়িত্বশীল উপদেষ্টা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরাসরি জানতে ও বুঝতে পারেন ডিসিরা কেমন। তারা পরষ্পরকে ৪ দিন ধরে বুঝার সুযোগ পান। ডিসিরা যেসব প্রস্তাব করেছেন এবং যা করেননি এর বাইরেও যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে তাও সম্মেলনে আলোচনা হবে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোথাও কোনো সমস্যা, প্রতিবন্ধকতায় পড়লে ডিসিরা সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে জানাবেন এবং নির্দেশনা নেবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কাউকে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে চাননি। তিনি বলেছেন-আপনারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। আপনাদের পরিচয় মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হোক। এর বাইরে কোনো সরকারি কর্মচারীর পরিচিতি হতে পারে না।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন করা হয়। এগুলো হলো স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। স্বাভাবিকভাবেই মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগে। গতবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৪ শতাংশ।

৪ দিনের সম্মেলনে কী কী হবে : প্রথমদিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এর আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথমদিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। দ্বিতীয় দিনে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। ৫ মে তৃতীয় দিনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তারা। এদিন নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। ৬ মে সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার গ্রহণ করবেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :