মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বহু দেশকে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ সংকটে বিদ্যুৎ খাতে সামাধন হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এ সংকট মেটাতে সোলার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎখাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ২০১৯ সালে নির্মিত দেশের প্রথম সরকারি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সফল মডেল। যেখান থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। একই সঙ্গে বিগত অর্ধযুগের বেশি সময়ে ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের বিদ্যুৎখাতে ভূমিকা রাখছে।
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। যার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৪২ মেগাওয়াট। ৮শ' ৫০ একর জায়গা জুড়ে এই কেন্দ্রে পানি বিদ্যুৎ ছাড়াও ২০১৯ সাল থেকে সোলার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট গ্রিড ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন নতুন করে ১ মেগাওয়াট আরও একটি সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অন্তত ৫ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। এছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনোটিই পূরণ হয়নি। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্নস্থানে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করে সরকার। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে আবার ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মূলত বৈশ্বিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারে গ্রিনহাউজ গ্যাস বাড়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে উৎপাদনমুখী রাষ্ট্রগুলো।
কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১১ সেপ্টেম্বর উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে মোট ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্য ৭২ কোটি টাকা। দৈনিক গড় উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার ইউনিট।
বেসরকারি সংস্থা ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড রাঙামাটি) এর সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জোর দিতে সরকারের কাছে আবেদন করছি। একই সঙ্গে জনমত তৈরিতে নানা সভা সমাবেশ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি সমাধান। সরকার যদি নীতিমালা তৈরি করে তাহলে বাড়ির ছাদ ও সরকারি ভবনগুলো দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করবে তাহলে দিনের বেলায় সরাসরি বিদ্যুতের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭.৪ মেগাওয়াটের সোলার প্ল্যান্ট উৎপাদন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অতি সম্প্রতি আরও এক মেগাওয়াট যোগ হচ্ছে। ৫৮০ ওয়াট করে আনুমানিক ১ হাজার ৭২৫ প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রজেক্টে সোলার প্লান্টটি নির্মাণে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭-৮ টাকা।
তিনি আরও জানান, আলাদাভাবে ৩৩২ কিলোওয়াটের রুফটপ বিদ্যুকেন্দ্রের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়াও নতুন ৭.৬ মেগাওয়াটের আরেকটি আলাদা সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদ হাসান জানান, পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়া-কমার আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আমাদের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য নতুন ১ মেগাওয়াট আরও একটি সোলার প্ল্যানটি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্ল্যানটি চালু করতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ শেষ হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ২০১৯ সালে নির্মিত দেশের প্রথম সরকারি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সফল মডেল। যেখান থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। একই সঙ্গে বিগত অর্ধযুগের বেশি সময়ে ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের বিদ্যুৎখাতে ভূমিকা রাখছে।
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। যার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৪২ মেগাওয়াট। ৮শ' ৫০ একর জায়গা জুড়ে এই কেন্দ্রে পানি বিদ্যুৎ ছাড়াও ২০১৯ সাল থেকে সোলার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট গ্রিড ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন নতুন করে ১ মেগাওয়াট আরও একটি সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অন্তত ৫ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। এছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনোটিই পূরণ হয়নি। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্নস্থানে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করে সরকার। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে আবার ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মূলত বৈশ্বিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারে গ্রিনহাউজ গ্যাস বাড়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে উৎপাদনমুখী রাষ্ট্রগুলো।
কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১১ সেপ্টেম্বর উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে মোট ৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্য ৭২ কোটি টাকা। দৈনিক গড় উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার ইউনিট।
বেসরকারি সংস্থা ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড রাঙামাটি) এর সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জোর দিতে সরকারের কাছে আবেদন করছি। একই সঙ্গে জনমত তৈরিতে নানা সভা সমাবেশ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি সমাধান। সরকার যদি নীতিমালা তৈরি করে তাহলে বাড়ির ছাদ ও সরকারি ভবনগুলো দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করবে তাহলে দিনের বেলায় সরাসরি বিদ্যুতের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭.৪ মেগাওয়াটের সোলার প্ল্যান্ট উৎপাদন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অতি সম্প্রতি আরও এক মেগাওয়াট যোগ হচ্ছে। ৫৮০ ওয়াট করে আনুমানিক ১ হাজার ৭২৫ প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রজেক্টে সোলার প্লান্টটি নির্মাণে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭-৮ টাকা।
তিনি আরও জানান, আলাদাভাবে ৩৩২ কিলোওয়াটের রুফটপ বিদ্যুকেন্দ্রের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়াও নতুন ৭.৬ মেগাওয়াটের আরেকটি আলাদা সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদ হাসান জানান, পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়া-কমার আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আমাদের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য নতুন ১ মেগাওয়াট আরও একটি সোলার প্ল্যানটি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্ল্যানটি চালু করতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ শেষ হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন