অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক সংস্করণ সই করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ চুক্তিতে সই করলো। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা তৈরি হলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পর্কের শুরুতে ইইউ ছিল বাংলাদেশের কাছে দাতাগোষ্ঠী (উন্নয়ন অংশীদার)। ২০০১ সালে ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। সেই অবস্থান থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া আর বিগত বছরগুলোর এনগেজমেন্টের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস থেকে পিসিএ চুক্তির অনুস্বাক্ষর করেছে ঢাকা-ইইউ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ সই হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান ও কায়া কালাস। তারা আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। এ চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন খলিলুর-কায়া।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার ইইউ অফিস এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক একটি নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই উন্নয়নের লক্ষ্য হলো-ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক, সর্বক্ষেত্রে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহত্তর ও অধিক রাজনৈতিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচ দফা আলোচনার পর বাংলাদেশ-ইইউ পিসিএ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ চুক্তিতে সই করলো। এর মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। এখন আমরা চূড়ান্ত চুক্তি করার জন্য কাজ করব। ইউরোপের ২৭টি দেশ চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। অনুমোদনের পর চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পিসিএ’র প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এটি একটি ভালো কাজ হলো। ইইউ বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ইইউ জোটের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পিসিএ নিয়ে আমরা প্রাথমিক চুক্তি করলাম। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছিল ইইউ। পরবর্তী সময়ে ইইউ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে ওই বছরের নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। এরপর ব্রাসেলসে গত বছরের এপ্রিলে (২০২৫) পিসিএ নিয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সবশেষ, পিসিএ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (২০২৬) আরেক দফা ঢাকা ও সিলেটে আলোচনা হয়। সে সময় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
পিসিএ হলো-আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ ও একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় এর মধ্যে থাকে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পর্কের শুরুতে ইইউ ছিল বাংলাদেশের কাছে দাতাগোষ্ঠী (উন্নয়ন অংশীদার)। ২০০১ সালে ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। সেই অবস্থান থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া আর বিগত বছরগুলোর এনগেজমেন্টের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস থেকে পিসিএ চুক্তির অনুস্বাক্ষর করেছে ঢাকা-ইইউ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ সই হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান ও কায়া কালাস। তারা আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। এ চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন খলিলুর-কায়া।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার ইইউ অফিস এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক একটি নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই উন্নয়নের লক্ষ্য হলো-ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক, সর্বক্ষেত্রে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহত্তর ও অধিক রাজনৈতিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচ দফা আলোচনার পর বাংলাদেশ-ইইউ পিসিএ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ চুক্তিতে সই করলো। এর মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। এখন আমরা চূড়ান্ত চুক্তি করার জন্য কাজ করব। ইউরোপের ২৭টি দেশ চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। অনুমোদনের পর চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পিসিএ’র প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এটি একটি ভালো কাজ হলো। ইইউ বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ইইউ জোটের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পিসিএ নিয়ে আমরা প্রাথমিক চুক্তি করলাম। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছিল ইইউ। পরবর্তী সময়ে ইইউ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে ওই বছরের নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল। এরপর ব্রাসেলসে গত বছরের এপ্রিলে (২০২৫) পিসিএ নিয়ে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সবশেষ, পিসিএ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (২০২৬) আরেক দফা ঢাকা ও সিলেটে আলোচনা হয়। সে সময় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
পিসিএ হলো-আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ ও একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় এর মধ্যে থাকে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন