গরেমে নাকাল শিশু ও বয়স্করা

বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০৩:২৬:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০৩:২৬:১৪ অপরাহ্ন
হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তীব্র গরমের কারণে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু ও বয়স্কসহ অনেক রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলেন, হঠাৎ করে আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এর প্রভাব মানবদেহের ওপর পড়ছে। যার ফলে এ সময়টায় অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবার ঢেকে রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং বাইরের খোলা খাবার পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তির ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যাজনিত রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব রোগীকে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ৫৭ রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃবিভাগে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এছাড়া পেট ব্যথা, বমি, ঠান্ডা-কাশি, জ্বরসহ আরও নানা অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন দেড় শতাধিক রোগী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি ও বহির্বিভাগে ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন দেড় হাজারের বেশি রোগী।

উপজেলার বালিনা এলাকা থেকে সাত মাস বয়সী শিশু আয়ানকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। সে দুদিন ধরে ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতায় ভুগছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে আড়াই বছর বয়সী শিশু সামিয়া। তিন দিন ধরে সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। শিশুটির বাবা শামীম হোসেন বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েও তেমন কোনো প্রতিকার না পেয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি রাখতে পরামর্শ দেন। এখন তার শারীরিক পরিস্থিতি অনেকটা ভালো।

দেড় বছর বয়সী শিশু মুনতাহাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তার মা আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, হঠাৎ করে মেয়ের বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিলেও অবস্থা উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন ডাক্তারদের চিকিৎসায় মেয়েটা কিছুটা ভালো আছে।

ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছকিনা বেগম। তিনি উপজেলার দুলালপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বজনরা জানান, ছকিনা গত দুদিন ধরে পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যায় ভুগছেন। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এনে তাকে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা কালবেলাকে বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তীব্র গরমের কারণে এ উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে এ সময়টায় শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দূষিত পানি পান, বাসি বা খোলাখাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ঠিকভাবে না মানার কারণে এ ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে সবাইকে অবশ্যই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাবার গ্রহণের আগে ও পরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং বাইরের খোলা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করতে হবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, কারও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে বেশি করে খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের মজুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :