​শাপলা চত্বর গণহত্যা: আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন

আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৮:১৭:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৮:১৮:৩৭ অপরাহ্ন
এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

প্রসিকিউশন বলছে, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ সময় র‍্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৩ সালের ৫ মের ওই ঘটনায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন সাবেক আইজিপি মামুন। ট্রাইব্যুনালে ওই মামলায় ৫ বছরের লঘুদণ্ড পেয়ে তিনি এখন কারাগারে আছেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিলও করেছেন তিনি।

শাপলা চত্বরের মামলা নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা, যার মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামও রয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে আসছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তিনি বেসামরিক ব্যক্তি, পুলিশ, র‍্যাব বা সেনাবাহিনীর সদস্য যেই হোন না কেন- সকলকেই বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে একটি ‘স্বতন্ত্র ঘটনা’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে সংঘটিত গুম ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা থেকে চাওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলো ‘ওয়াইড স্প্রেড' এবং ‘সিস্টেমেটিক' অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ায় আনা হবে।

চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের অন্য একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া মানে এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য সব ঘটনায় দায়মুক্তি পাবেন। একটি নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য দেওয়া দায়মুক্তি অন্য পৃথক ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ আলাদাভাবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ৭ জুন পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক দুই ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

‘নারী উন্নয়ন নীতি’ ও ‘শিক্ষা নীতি’-এর বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের পাল্টায় রাজপথে নেমে হেফাজতে ইসলাম বেশি পরিচিতি পায়।

শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে সংগঠনটি। সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।

শাপলা চত্বরের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন বলে সে সময় এক প্রতিবেদনে দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। যদিও পুলিশের দাবি, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যাটি ১১।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই মাসের ২০ তারিখ শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় সেখানে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :