​দড়ি-বাঁশ ধরে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন মারা গেছেন

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:৩৯:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:৩৯:০৯ অপরাহ্ন
দড়ি ও বাঁশ ধরে মসজিদে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজা নামাজ শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল।

আব্দুর রহমান বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ধর্মপ্রাণ মানুষটিকে নিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করলে তিনি আলোচনায় আসেন।

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। এর ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এরপর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। মসজিদের নামেই তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় জটিলতা দেখা দেয় মসজিদে আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করে ফেলেন শতবর্ষী এই বৃদ্ধ। এজন্য সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে দেন দড়ি ও বাঁশ। এরপর দড়ি আর বাঁশের সাহায্যে নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।

সাইফুল আরও বলেন, হজ পালন করে আসার পর তার বাবা মসজিদ স্থাপন করে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। তখনই জটিলতা দেখা দেয় আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই জটিলতাও নিরসনের পথ বাতলে নেন আব্বা নিজেই। বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দিতে বলেন। সে অনুযায়ী, আমরা দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেই। এরপর প্রথম দিকে কয়েকদিন তার নাতিরা দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলে। এছাড়া বাঁশ ও দড়ি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেয়া হয় একটি লাঠিও। এভাবে কয়েকদিন দেখিয়ে দেয়ার পর আর কারও সাহায্য নিতে হয়নি আব্বার।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন তিনি। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারসহ মানুষকে ধর্মের পথে আনতে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই বিরল। তার মৃত্যুতে সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার আত্মা মাগফিরাত কামনা করছি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :