বসন্তের শেষের দিকে আর গ্রীষ্মের আগমুহূর্তে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও সড়কের পাশে ফুটে আছে অপরূপ বরুণ ফুল। থোকায় থোকায় ফোটা এ ফুল যেন প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেছে। ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীসহ স্থানীয় বাসিন্দা আর পথচারীদের নজর কাড়ছে অপরূপ এ ফুলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য।
জানা গেছে, বরুণ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্রেতেভা রিলিজিওসা। এটি ক্রেতেভা গণের একটি ঔষধি বা ফুল গাছ। এটি জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং কতিপয় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় গাছ। এ গাছে সাধারণত বসন্তের নতুন পাতার পরে গ্রীষ্মের শুরুতে বড় থোকায় থোকায় সাদা এবং বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। বোঁটা ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর ৫টি মুক্ত পাপড়ি থাকে। সাধারণত খাল, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে এ গাছ বেশি জন্মে।
এই গাছ ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। এ গাছের পাতার উপরিভাগ চকচকে। নিচের অংশ ফ্যাকাসে। বরুণ ফুলের একাধিক নাম রয়েছে যেমন, বর্না, বালাই, বিদাসি, অবিয়ুচ ইত্যাদি। এ গাছের ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার। এর ফল শাঁসাল ও শক্ত হয়ে থাকে। বরুণ ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ। এর পাতা, ফুল, ফল, শিকড় ও বাকল নানা রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এই উপজেলায় বরুণ গাছ বেশি দেখা গেলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তা অনেকটাই কমেছে। তবে যেসব এলাকায় এখনও এই গাছ রয়েছে, সেখানে ফুল ফোটার মৌসুমে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ও মৃদু ঘ্রাণ। অনেকেই চলতিপথে থেমে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখেন। কিশোরী ও তরুণীদের চুলের খোঁপায় ও বেনিতেও শোভা পায় অপরূপ এই ফুল। একসময় এই গাছের পাতা ফুল ও ফল এবং ছাল নানা রোগের ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
সরেজমিনে উপজেলার শিদলাই, দুলালপুর, মালাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে ও জলাশয়ের পাশে বরুণ গাছে একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফুটেছে। এসব ফুল প্রকৃতিতে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বছরের এই সময়টায় এসে বরুণ ফুল প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে। উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নে বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর গরমের শুরুতে বরুণ ফুল ফুটতে দেখি। সাদা রঙের এই ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। সকালে-বিকালে হাঁটতে বের হলে গাছভর্তি ফুল দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়।
স্থানীয় বিদ্যাপীঠ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী ও ফুলপ্রেমী নওরিন জাহান কলি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক, আর এই প্রকৃতির শোভা বৃদ্ধি করে নানারকম ফুল। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা তেমনই এক ফুল বরুণ। বরুণ ফুলের সৌন্দর্য অন্য ফুলের চেয়ে আলাদা। এর হালকা সুবাস ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্য পরিবেশকে শান্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমাদের বাড়ির পাশের ডোবার পাড়ে একটি বরুণ গাছ রয়েছে, আমি এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি।
প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে গ্রামাঞ্চলে অনেক বরুণ গাছ দেখা যেত, কিন্তু এখন কমে গেছে। এ গাছ থেকে মূল্যবান কাঠ সংগ্রহ করা যায় না বলে এখন আর কেউ এ গাছের চারা রোপণ করে না। তারপরও এখনও যেসব গাছ আছে, সেগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এ ফুল যেন পুরো এলাকা সাদা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। এই ফুলের অন্যরকম সৌন্দর্য সববয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক সোহেল রানা বলেন, বরুণ গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এটি ঔষধি গুণেও সমৃদ্ধ। ইউনানী চিকিৎসায় বরুণের ছাল, ফুল-ফল ও পাতা বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মূত্রনালির সমস্যা, কিডনির পাথর ও প্রদাহজনিত রোগে এর ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও বরুণ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই উপকারী গাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
জানা গেছে, বরুণ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্রেতেভা রিলিজিওসা। এটি ক্রেতেভা গণের একটি ঔষধি বা ফুল গাছ। এটি জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং কতিপয় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় গাছ। এ গাছে সাধারণত বসন্তের নতুন পাতার পরে গ্রীষ্মের শুরুতে বড় থোকায় থোকায় সাদা এবং বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। বোঁটা ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর ৫টি মুক্ত পাপড়ি থাকে। সাধারণত খাল, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে এ গাছ বেশি জন্মে।
এই গাছ ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। এ গাছের পাতার উপরিভাগ চকচকে। নিচের অংশ ফ্যাকাসে। বরুণ ফুলের একাধিক নাম রয়েছে যেমন, বর্না, বালাই, বিদাসি, অবিয়ুচ ইত্যাদি। এ গাছের ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার। এর ফল শাঁসাল ও শক্ত হয়ে থাকে। বরুণ ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ। এর পাতা, ফুল, ফল, শিকড় ও বাকল নানা রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এই উপজেলায় বরুণ গাছ বেশি দেখা গেলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তা অনেকটাই কমেছে। তবে যেসব এলাকায় এখনও এই গাছ রয়েছে, সেখানে ফুল ফোটার মৌসুমে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ও মৃদু ঘ্রাণ। অনেকেই চলতিপথে থেমে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখেন। কিশোরী ও তরুণীদের চুলের খোঁপায় ও বেনিতেও শোভা পায় অপরূপ এই ফুল। একসময় এই গাছের পাতা ফুল ও ফল এবং ছাল নানা রোগের ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
সরেজমিনে উপজেলার শিদলাই, দুলালপুর, মালাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে ও জলাশয়ের পাশে বরুণ গাছে একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফুটেছে। এসব ফুল প্রকৃতিতে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বছরের এই সময়টায় এসে বরুণ ফুল প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে। উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নে বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর গরমের শুরুতে বরুণ ফুল ফুটতে দেখি। সাদা রঙের এই ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। সকালে-বিকালে হাঁটতে বের হলে গাছভর্তি ফুল দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়।
স্থানীয় বিদ্যাপীঠ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী ও ফুলপ্রেমী নওরিন জাহান কলি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক, আর এই প্রকৃতির শোভা বৃদ্ধি করে নানারকম ফুল। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা তেমনই এক ফুল বরুণ। বরুণ ফুলের সৌন্দর্য অন্য ফুলের চেয়ে আলাদা। এর হালকা সুবাস ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্য পরিবেশকে শান্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলে। আমাদের বাড়ির পাশের ডোবার পাড়ে একটি বরুণ গাছ রয়েছে, আমি এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি।
প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে গ্রামাঞ্চলে অনেক বরুণ গাছ দেখা যেত, কিন্তু এখন কমে গেছে। এ গাছ থেকে মূল্যবান কাঠ সংগ্রহ করা যায় না বলে এখন আর কেউ এ গাছের চারা রোপণ করে না। তারপরও এখনও যেসব গাছ আছে, সেগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এ ফুল যেন পুরো এলাকা সাদা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। এই ফুলের অন্যরকম সৌন্দর্য সববয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক সোহেল রানা বলেন, বরুণ গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এটি ঔষধি গুণেও সমৃদ্ধ। ইউনানী চিকিৎসায় বরুণের ছাল, ফুল-ফল ও পাতা বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মূত্রনালির সমস্যা, কিডনির পাথর ও প্রদাহজনিত রোগে এর ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও বরুণ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই উপকারী গাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন