আজ ইস্টার সানডে

আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন
খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে বা পবিত্র পুনরুত্থান আজ রোববার। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা এই দিনে মৃত্যুর বিরুদ্ধে যিশুখ্রিস্টের বিজয়ের মহিমান্বিত ক্ষণটি উদযাপন করেন। বিশ্বাসীদের কাছে এটি পুরাতন জীবনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ও জ্যোতির্ময় জীবনের সূচনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে পালিত হয় না; বরং এটি বসন্ত বিষুবের পরবর্তী প্রথম পূর্ণিমার পর প্রথম রবিবারে পালন করা হয়। সাধারণত ২১ মার্চ বা তার পরে যে পূর্ণিমা হয়, সেই পূর্ণিমার পরবর্তী রোববার এই উৎসব উদযাপিত হয়। চলতি বছর ইস্টার সানডে পালিত হচ্ছে আজ ৫ এপ্রিল। মূলত গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বিভিন্ন পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মে’র মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে এই উৎসবের দিনটি নির্ধারিত হয়। ধর্মীয় গাম্ভীর্যের পাশাপাশি এই দিনে নানা আনন্দঘন সামাজিক রীতিও পালন করা হয়।

খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন বা ক্রিসমাসের পরেই ইস্টার সানডের অবস্থান। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডেতে যিশুখ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে অর্থাৎ পরবর্তী রোববারে তিনি পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠেন। মৃত্যুকে জয় করে যিশুর এই ফিরে আসা এবং মানুষের মাঝে পুনরায় উপস্থিত হওয়াই ইস্টার সানডের মূল প্রতিপাদ্য। যিশুর ক্রুশে জীবনদান এবং গৌরবদীপ্ত পুনরুজ্জীবন খ্রিষ্টীয় ধর্মবিশ্বাসের মূল ভিত্তি। মানুষের সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে যাওয়াই এই দিবসের প্রধান শিক্ষা। ইস্টার উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্ট-বিশ্বাসীরা বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও কর্মসূচি পালন করেন। তবে ইস্টারের দিনক্ষণ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে।

সাধারণত ‘স্প্রিং ইকুইনক্স’ বা মহাবিষুব-এর সময় এই উৎসব পালন করা হয়। যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সঠিক বছর নিয়েও গবেষকদের মধ্যে মতান্তর রয়েছে। অধিকাংশের মতে এটি ৩৩ খ্রিষ্টাব্দ হলেও, স্যার আইজ্যাক নিউটন গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে দাবি করেছিলেন যে সময়টি ছিল ৩৪ খ্রিষ্টাব্দ। যিশুর পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে এদিন রকমারি রঙে রাঙানো ‘ইস্টার এগ’ বা ডিম বিতরণ করা হয়। বর্তমানে চকোলেট দিয়ে তৈরি ডিম্বাকৃতির উপহার দেওয়ার প্রচলন বেশ বেড়েছে। এছাড়া শিশুদের আনন্দের জন্য বড়দের ‘ইস্টার বানি’ সেজে চকোলেট উপহার দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে ডিম নিয়ে মজার খেলার আয়োজন করা এই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :