তেলের জন্য কৃষকদের হাহাকার: ছুটছেন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ১২:১২:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ১২:১২:৩৪ অপরাহ্ন
রাঙামাটির ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি বিক্রির নির্ধারিত সময় ও রুটিনের জটিলতায় ডিজেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন কৃষক, জেলে এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শহরের চারটি পাম্পের মধ্যে তিনটিতে রুটিন অনুযায়ী ডিজেল নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক, বোটচালক, ট্রাকচালক ও জেলেরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান। স্থানীয় প্রশাসন সপ্তাহে তিনদিন ডিজেল বিক্রি এবং সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পান না। এতে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, সেচ দিতে না পারায় জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে, গাছপালা মরে যাচ্ছে। এখন তারা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে বিক্রির সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা। তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে নারীদেরও। তারা জানান, পুরুষরা নদীতে মাছ ধরতে গেছেন। তেল পেলেই তারা আবার জাল নিয়ে নদীতে যেতে পারবেন। ডিজেল সংকটে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খরচও বাড়ছে। অন্যদিকে, টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। অকটেনের অভাবে এ দ্রুতগামী সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্পিডবোট লাইনম্যান মো. মহি উদ্দিন।

বরকল থেকে রিজার্ভ বাজারের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল চাকমা বলেন, “গত পরশুদিনও (৩১ মার্চ) তেল পাইনি। আজও (২ এপ্রিল) ১১টা বেজে যাওয়ায় লাইনে থাকা কাউকে আর তেল দিচ্ছে না। এখন কী করবো? ক্ষেতের জমি ফেটে গেছে, পানি দিতে পারছি না। বৃষ্টিও হচ্ছে না—কে দেখবে আমাদের?” রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকার এক কৃষক বলেন, “সময়টা বাড়িয়ে দিলে আমরা কিছু তেল পেতাম। সকাল ছয়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।” পণ্য পরিবহনের চালক মো. মনির হোসেন বলেন, “ট্রাকে তরমুজ নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। পাম্পে এসে বসে থেকেও ডিজেল পাইনি। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

রাঙামাটি কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সেচ কাজে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বোরো আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। অনেকেই দূর উপজেলা থেকে শহরে তেল নিতে আসছেন, এতে কৃষি খরচ বাড়ছে। তবে প্রকৃত কৃষকরা যেন ডিজেল পান, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :