ইরান-সংকটকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শত্রুপক্ষের জন্য নৌপথটি অনিরাপদ করে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুয়েজ খাল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি আন্দোলন লোহিত সাগর অঞ্চলে জাহাজে হামলা চালানোর কারণে এই রুটে ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে চলাচলও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিশরের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুয়েজ খাল লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই খাল ব্যবহার করে জাহাজগুলো আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে না গিয়ে সহজে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথ সুয়েজ খাল বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সুয়েজ খাল শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই ঘটনাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা স্পষ্ট করে তোলে।
উনিশ শতকের শেষদিকে সুয়েজ খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটেন। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য এটি ছিল তাদের সাম্রাজ্যিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র। ভারতসহ উপনিবেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে খালটির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে আঘাত হানে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিলে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয় ব্রিটেনকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন—দুই পরাশক্তিই এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করে। আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ব্রিটেনকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হয়।
সুয়েজ সংকটের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—ব্রিটেন আর এককভাবে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বড় কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে অনেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘সুপারপাওয়ার’ যুগের অবসানের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এই সংকট শুধু ব্রিটেনের অবস্থান দুর্বল করেনি, বরং উপনিবেশগুলোতেও স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে, যা পরবর্তী ঠান্ডা যুদ্ধের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। সর্বোপরি, সুয়েজ খাল কেবল একটি নৌপথ নয়—এটি ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো প্রতীক। ১৯৫৬ সালের সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, শক্তির ভারসাম্য কীভাবে মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে ভেসেই ধীরে ধীরে অস্তমিত হয়েছে এক সময়ের প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
মিশরের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুয়েজ খাল লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই খাল ব্যবহার করে জাহাজগুলো আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে না গিয়ে সহজে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথ সুয়েজ খাল বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সুয়েজ খাল শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই ঘটনাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা স্পষ্ট করে তোলে।
উনিশ শতকের শেষদিকে সুয়েজ খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটেন। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য এটি ছিল তাদের সাম্রাজ্যিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র। ভারতসহ উপনিবেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে খালটির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে আঘাত হানে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিলে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয় ব্রিটেনকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন—দুই পরাশক্তিই এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করে। আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ব্রিটেনকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হয়।
সুয়েজ সংকটের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—ব্রিটেন আর এককভাবে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বড় কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে অনেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘সুপারপাওয়ার’ যুগের অবসানের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এই সংকট শুধু ব্রিটেনের অবস্থান দুর্বল করেনি, বরং উপনিবেশগুলোতেও স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে, যা পরবর্তী ঠান্ডা যুদ্ধের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। সর্বোপরি, সুয়েজ খাল কেবল একটি নৌপথ নয়—এটি ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো প্রতীক। ১৯৫৬ সালের সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, শক্তির ভারসাম্য কীভাবে মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে ভেসেই ধীরে ধীরে অস্তমিত হয়েছে এক সময়ের প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন