​নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

আপলোড সময় : ২৭-০৩-২০২৬ ০৪:৩৫:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৩-২০২৬ ০৫:২৯:২৪ অপরাহ্ন
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ের পর দেশটির ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জেন-জি প্রজন্মের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে পরিচিত র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। ৩৫ বছর বয়সি বালেন নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল। ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শঙ্খধ্বনি, ১০৮ জন বটুকের স্বস্তিশান্তি পাঠ এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অষ্টমঙ্গল মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে নেপালের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উপরাষ্ট্রপতি রাম সহায় প্রসাদ যাদব, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাউত, জাতীয় সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ প্রসাদ দাহালসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রীরাও ছিলেন।

এদিকে কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ চলতি বছরের শুরুতে পদত্যাগ করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি কেপি শর্মা অলিকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে তার দল তাকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় নেতা নির্বাচন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বালেন্দ্র শাহ একটি নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। এতে স্বর্ণিম ওয়াগলেকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী, সুধন গুরুংকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিশির খানালকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুনীল লামসাল ভৌত অবকাঠামো, পরিবহন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

অন্যান্য নিয়োগের মধ্যে বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠকে জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচ; খড়কা রাজ পাউডেলকে পর্যটন; শাসমিত পোখারেলকে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া; নিশা মেহতাকে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা; বিক্রম তিমিলসিনাকে যোগাযোগ; প্রতিভা রাওয়ালকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি ও সাধারণ প্রশাসন; দীপক শাহকে শ্রম ও কর্মসংস্থান; শোভিতা গৌতমকে আইন; গীতা চৌধুরীকে কৃষি, পশুপালন, বন ও পরিবেশ এবং সীতা বাদিকে নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নেপাল প্রজাতন্ত্রের পথে এগোলেও বালেন্দ্র শাহকে রাজতন্ত্রপন্থি হিসেবে দেখা হয়। ২০০৮ সালে দেশটিতে রাজতন্ত্র বিলোপ করা হয়। ফলে তার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে রাজতন্ত্র ফিরে আসবে কি না তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পেশায় প্রকৌশলী এবং একসময় জনপ্রিয় র‍্যাপার হিসেবে পরিচিত বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নগর সংস্কার, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে নেপালের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :