​দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করা হবে: নৌপ্রতিমন্ত্রী

আপলোড সময় : ২২-০৩-২০২৬ ০৮:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৩-২০২৬ ০৮:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করা হবে। এরপর তা ব্যবহার উপযোগী করে মানুষের জীবনধারাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। আমাদের ঘরবসতি বাড়ছে কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। পরিকল্পনার অভাবে পানি জমে থাকছে। এই পানি যাবে কোথায়? আল্লাহ আমাদের খালের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ড্রেনেজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। খাল আমাদের লাইফলাইন, অথচ আমরা সেই খালই বন্ধ করে দিচ্ছি।

রোববার (২২ মার্চ) ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় তুলাতুলির খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ভূগর্ভস্থ ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি তুলছি, এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এ অঞ্চলে তেমন কলকারখানা নেই, মানুষের জীবিকার প্রধান উপায় কৃষি। কৃষিকাজের জন্য পানির প্রয়োজন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আমাদের রাস্তা কম কিন্তু আল্লাহ আমাদের নদীপথ দিয়েছেন, যাতে সহজেই পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা যায়। যেখানে খালগুলো সচল রয়েছে, সেখানে বাজারগুলোও জমজমাট।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যা পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া অব্যাহত রেখেছিলেন। বর্তমানে তাদেরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনস্বার্থে আবারও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছেন।

খাল দখলদারদের বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় খাল দখল হচ্ছে। খালের দিকে তাকালেই বোঝা যায় কারা দখল করছে— তারা প্রভাবশালী ও শক্তিশালী। কোনো সাধারণ কৃষক বা খেটে খাওয়া মানুষ খাল দখল করে না। দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করে মানুষের জীবনধারাকে নতুনভাবে সাজানো হবে ইনশাআল্লাহ। এটি আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি।

সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খাল খনন যেন সঠিকভাবে হয়, শুধু নামমাত্র কাজ যেন না হয়। আমি নিজে মেপে দেখব এবং এমপিকেও তা মেপে দেখার জন্য বলেছি। জনগণকেও কাজ বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানাই। এভাবেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। এছাড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, যা বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উপ-প্রকল্পের আওতায় তুলাতুলির খালসহ মোট ২৩ দশমিক ০৯ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন এবং প্রায় ৬ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে। পাশাপাশি তিনটি কালভার্ট এবং একটি ডব্লিউএমসিএ অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আংগারিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমি সরাসরি উপকৃত হবে এবং ১ হাজার ৮৮১টি পরিবারের সদস্যরা এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :