ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়

আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০২:৩২:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০৪:১৮:০৬ অপরাহ্ন
খুলনায় জমে উঠেছে ঈদের বাজার। বিপণিবিতানসহ ছোট-বড় পণ্য সামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। মার্কেটগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট ভিড় থাকছে। অন্যদিকে ফুটপাথের দোকানেও বিক্রি বেড়েছে। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসলেও আশার তুলনায় বিক্রি অনেকটা কম বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এদিকে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ বাড়িয়েছে তৎপরতা।

খুলনার ডাকবাংলো মোড় মার্কেট, আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের শুরুর দিকে বেচাকেনা কম ছিল। গত ৪-৫ দিন থেকে বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। সকাল থেকে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের চাপ থাকে। জামা-জুতা এবং থ্রি পিসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকছে। কসমেটিক্স ও গোল্ড পুলিশ গহনার চাহিদাও এবার রয়েছে তুলনামূলক বেশি।

খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপণিবিতানের একজন মালিক মেহেদী হাসান বলেন, এবার নানান ধরনের থ্রি পিস এসেছে মার্কেটে। পাকিস্তানি থ্রি পিস বেশি। ক্রেতাদের চাহিদাতে চুমকির কাজ করা এবং হাতের কাজ করা থ্রি পিসের চাহিদা রয়েছে। এখানে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত দামের থ্রি পিস রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন যাবৎ বিক্রি বৃদ্ধি পেলেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। তবে গত পনেরো দিনের তুলনায় বিক্রি তুলনামূলক অনেকটা বেড়েছে।

জেলা পরিষদের মার্কেটের পাদুকা ব্যবসায়ী তাঈব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে লোফার এবং স্লিপার জুতার চাহিদা বেশি। অনেকে আবার কেডস এবং খোলা এক ফিতার জুতাও নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এবার জুতার দাম একটু বেশি। বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে জুতার দাম বাড়লেও তুলনামূলক কম রয়েছে।

জব্বার মার্কেটের প্যান্ট-শার্ট ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, ৪-৫ দিন ধরে প্যান্ট-শার্টের বিক্রি বেড়েছে। রমজানের শুরুতে নতুন ড্রেস উঠাতে শুরু করেছি। কিন্তু তুলনামূলক এতদিন বিক্রি কম ছিল। লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে মনে হচ্ছে এবার ঈদের ব্যবসায় লাভ হবে। তিনি আরও বলেন, তার কাছে মানভেদে ১৫-২০ ধরনের প্যান্ট এবং বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট রয়েছে। এসব প্যান্ট ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডাকবাংলো মার্কেটে ফুটপাতের একজন ব্যবসায়ী আমিরুল মিয়া বলেন, আমাদের অনেক দোকান ভাড়া দিতে লাগে না। এজন্য কম দামে জামা-কাপড় বিক্রি করতে পারি। এজন্য এবার বিক্রি অনেক বেড়েছে। প্রথম দিকে ব্যবসা একটু মন্দা যাচ্ছিল। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে বিক্রি বেড়েছে। শার্ট ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং বাচ্চাদের বিভিন্ন জামা-কাপড় ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে তিনি বিক্রি করছেন।

আখতার চেম্বার সংলগ্ন কসমেটিক্স মার্কেটের ব্যবসায়ী মঈনুল ইসলাম বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে কসমেটিক্স বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। বিক্রি নেই। এবার বিক্রি হলেও তা আশানুরূপ না। ছোট দোকানেও দশ-পনেরো লাখ টাকার চালানের পণ্য সামান্য দেখায়। অনেক ব্যবসায়ী চালান বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে জামা কিনছিলেন শহীদুল মোড়ল। জামা-কাপড়ের নতুন কালেকশন কম দেখছি। তবে গতবারের তুলনায় সব ধরনের পোশাকে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। মানের তুলনায় দাম বেশি হলে বুঝতে পারা যায়। দাম একটু কম হলে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়।

দেশীয় পাঞ্জাবি ঘরে আসা সাবাব আহমেদ বলেন, এবার পাঞ্জাবি-পায়জামার দাম বেশ বেড়েছে। সুতির পাঞ্জাবি এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে গতবার কিনেছিলাম। এবার তা ২০০-৩০০ টাকা বেশি মনে হচ্ছে। তবে মান ভালো হলে দাম দিয়ে কিনতে তো সমস্যা থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মার্কেটে ফোর্স ও মোবাইল টিমের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সাতটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কেট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা তৎপর রয়েছি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :